৫ আগস্টের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার দাবি ওঠে। তাদের মতে, এই আন্দোলন পুরনো রাজনীতির ইতি ঘটিয়ে নতুন বাংলাদেশের জন্য নতুন রাজনীতির দরজা খুলে দিয়েছে। প্রচলিত দলগুলোকে তাদের চিন্তা ও কৌশল বদলাতে হবে, নয়তো ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে তারা টিকে থাকতে পারবে না।
ছাত্র আন্দোলনের নেতারা নতুন রাজনৈতিক শক্তি প্রতিষ্ঠার তৎপরতা শুরু করেছেন। তবে এটি কোনো রাজনৈতিক দল হবে, নাকি একটি প্ল্যাটফর্ম, তা এখনও নিশ্চিত নয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক কমিটি এ প্রক্রিয়ায় নেপথ্য ভূমিকা রাখছে। জাতীয় নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে যুক্ত করার চেষ্টা করছে।
এর আগে এক/এগারোর সময়েও তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি গড়ার প্রচেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু তখন সেটি ব্যর্থ হয়েছিল কারণ সেই প্রচেষ্টার পেছনে জনসমর্থন বা মাঠ পর্যায়ের প্রভাব ছিল না। তবে এবারের প্রেক্ষাপট আলাদা। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি মানুষের অনাস্থা প্রকাশ করেছে। নতুন রাজনৈতিক শক্তির প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কার ও নির্বাচনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। যদিও সুনির্দিষ্ট নির্বাচনী সময়সূচি এখনও ঘোষণা করা হয়নি। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে, যা আসন্ন নির্বাচন পরিচালনা করবে।
নতুন রাজনৈতিক শক্তি গঠন এবং আসন্ন নির্বাচনে তাদের ভূমিকা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে ছাত্র আন্দোলনের নেতারা এবং জাতীয় নাগরিক কমিটি যৌথভাবে নতুন রাজনৈতিক শক্তি প্রতিষ্ঠার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তারা বিশ্বাস করে, প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি নতুন শক্তির উপস্থিতি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা এবং মানুষের জন্য কাজ করার প্রয়াসকে ত্বরান্বিত করবে।
এখন দেখার বিষয় হলো, এই নতুন শক্তির উত্থান স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় হবে, নাকি এর পেছনে থাকবে অন্য কোনো কৌশল। তবে নিশ্চিতভাবেই এটি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।



0 Comments