আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০২৪, ১৯:৪৬
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্য ও জ্বালানি খাতে দেশ নৈরাজ্যের চরম সীমায় পৌঁছেছিল। সে সময় ব্যবসায়ীদের কোনো মর্যাদা ছিল না। তবে এখন পরিস্থিতি বদলেছে।
আজ শনিবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) আয়োজিত "দেশের শিল্প খাতে জ্বালানি সংকট সমাধানের পথ" শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।
সেমিনারের প্রধান অতিথি ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। এ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন শিল্প খাতের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ও প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা সেমিনারে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে শেখ বশিরউদ্দীন গ্যাস সংযোগ পেতে বিগত সরকারের সময়ে তাঁর তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন। তিনি বলেন, "সাবেক জ্বালানিমন্ত্রীর (প্রতিমন্ত্রীর) কাছে গিয়েছিলাম। তখন ওনার বাসার সামনে বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিলাম, যেন চাকরি চাইতে গিয়েছি। কারণ, আমি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বিশাল বিনিয়োগ করেছি, কিন্তু গ্যাস সংযোগ পাচ্ছিলাম না। সেই সময় গ্যাস সংযোগ পাওয়া আমার কাছে ব্যাংকের নিবন্ধন পাওয়ার মতো কঠিন মনে হতো।"
তিনি আরও বলেন, "বৃষ্টিতে ভিজে বাসার সামনে দাঁড়িয়ে থাকার পর প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হলো। এরপর ওনার সঙ্গে বসে অনেক কথা শুনতে হয়েছে। কিন্তু সেসব যুক্তি আমার জ্ঞানের সঙ্গে মেলেনি। তবুও শোনার চেষ্টা করেছি, কারণ করার মতো কিছুই ছিল না। একজন ব্যবসায়ী হিসেবে ন্যূনতম যে সম্মান আশা করেছিলাম, সেটাও পাইনি।"
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, "এখন পরিবেশ অনেক বদলেছে। আপনাদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত হয়েছে। সরকারের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে এগিয়ে আসুন। নিজের টাকা নিজেদের জন্য ব্যবহার করুন। অতীতে (প্রভাবশালীদের) কত টাকা দিয়েছি, তার হিসাব করতে পারব না। এখন সেই পরিস্থিতি নেই। এখন আর কাউকে টাকা দিতে হবে না। নিজেরা নিজেদের কাজে ব্যবহার করতে পারবেন। সুযোগ এসেছে, এই সুযোগ কাজে লাগান।
"কিছু মানুষের ব্রেন স্ক্যান করে দেখতে ইচ্ছা করে"
সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দেশ নৈরাজ্যের চরম সীমায় পৌঁছেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি বলেন, "বিগত সময়ে আমরা এমন এক বিচারহীনতা, স্বজনতোষণ এবং একপেশে পরিবেশের মধ্য দিয়ে গিয়েছি, যেখানে আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তাও ছিল না।"
তিনি আরও বলেন, "আমাদের মেপে কথা বলতে হতো, অনিচ্ছা সত্ত্বেও নিজের মস্তিষ্ককে অসম্ভব চাপ দিয়ে প্রভাবশালীদের প্রশংসা করতে হয়েছে। এমন সব কথাবার্তা শুনতে এবং বিশ্বাস করতে হয়েছে, যা শোনার পর মনে হতো নিজেকে আহত করি। তখন নিজের অর্জিত জ্ঞানকে একেবারে অপ্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে।"
জ্বালানি খাতকে দুর্নীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উল্লেখ করে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, "অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার পর কিছু আর্থিক অপরাধী সম্পর্কে জানতে পেরেছি। এসব দেখে মাঝে মাঝে মনে হয়, কিছু মানুষের ব্রেন স্ক্যান করে দেখি তারা এতটা অপরাধপ্রবণ হলো কীভাবে।"
তিনি আরও বলেন, "জ্বালানি খাতে যে দুর্বলতা দেখা দিয়েছে, তা কোনো দুর্ঘটনা নয়; এটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বাস্তবতাকে অস্বীকার করে না। এজন্য আমরা সমস্যাগুলোর সমাধানের সম্ভাব্য পথ খুঁজে বের করতে পারব বলে আশাবাদী।"
তিনি দেশের জ্বালানি সংকট সমাধানে ব্যবসায়ী মহলের সহযোগিতা চেয়েছেন এবং সবাইকে এ সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।



0 Comments