Advertisement

অ্যান্টিগা টেস্ট: জাকিরের দুর্দান্ত ক্যাচ, তিন ওভারে বাংলাদেশ নিল ২ উইকেট

 

আম্পায়ার্স কলে বেঁচে গেলেন কেমার রোচ

হাসান মাহমুদের ওভারের শেষ বলটি ছিল ফুলার লেংথে। ফ্লিক করতে গিয়ে ব্যর্থ হন রোচ, বল তার প্যাডে লাগলে বাংলাদেশ এলবিডব্লুর জন্য জোরালো আবেদন জানায়। কিন্তু আম্পায়ার না দিয়ে দিলে, বাংলাদেশ রিভিউ নিলে দেখা যায় যে বলটি লেগ স্টাম্পে আঘাত হানত। তবে আম্পায়ার্স কলে রোচ বেঁচে যান।

৮৮ ওভারের শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ৭ উইকেটে ২৬৮।

হাসানের আরেকটি উইকেট

নিজের দ্বিতীয় ওভারেই আরও একটি উইকেট পেলেন হাসান মাহমুদ। তাঁর বলেই গালিতে ক্যাচ তুলে দেন আলজারি জোসেফ। দারুণ এক ক্যাচে সেটি ধরেন জাকির হাসান, যিনি ডান দিকে ঝাঁপিয়ে অসাধারণ দক্ষতায় বলটি গ্র্যাব করেন। এতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ২৬১।

হাসানের প্রথম উইকেট

গতকাল টেস্টের প্রথম দিনে দুর্দান্ত বোলিং করলেও উইকেট পায়নি হাসান মাহমুদ। তবে আজ দিনের প্রথম ওভারের মধ্যেই উইকেট পেলেন তিনি। এলবিডব্লু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জসুয়া দা সিলভাকে ফিরিয়ে দেন বাংলাদেশের পেসার।

৮৫ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ৬ উইকেটে ২৫৩।

প্রথম দিনের খেলা শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৫ উইকেটে ২৫০

৮৪তম ওভারের খেলা শেষে হালকা বৃষ্টি শুরু হলে, মাঠের দুই আম্পায়ার দিনের আলো নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না। ফলে প্রথম দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করেন তারা।

প্রথম সেশনে ২৩ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৫০ রান সংগ্রহ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দ্বিতীয় সেশনে ৩১ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৬৬ রান তোলে তারা। শেষ সেশনে ৩০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

প্রথম সেশনে প্রতি ওভারে গড়ে রান ওঠে ২.১৭, দ্বিতীয় সেশনে ২.১৩ এবং তৃতীয় সেশনে সবচেয়ে বেশি—গড়ে ৪.৪৭ রান ওঠে।

প্রথম দিনটি ছিল মোটামুটি সমান পর্যায়ে। কোনো দলই এককভাবে এগিয়ে ছিল না, তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশকে পিছিয়ে ফেলার। চতুর্থ উইকেটে অ্যাথানেজ ও লুইস ১৪০ রানের পার্টনারশিপ গড়েন, যেখানে দুজনেই সেঞ্চুরির সম্ভাবনা রাখছিলেন। কিন্তু শেষ সেশনে ২০ বলের মধ্যে লুইস ৯৭ এবং অ্যাথানেজ ৯০ রানে আউট হয়ে ম্যাচে বাংলাদেশকে ফেরার সুযোগ দেন। আসলে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ নিজেই এই সুযোগটি তৈরি করেছে, কারণ দুজনই বাজে শট খেলে আউট হয়েছেন—অর্থাৎ, তারা নিজেরাই উইকেট দিয়েছেন।

জশুয়া দা সিলভা ১৪ এবং গ্রিভস ১১ রানে অপরাজিত ছিলেন।

প্রথম সেশনের মাঝামাঝি সময়ে তাসকিন আহমেদ নিজের টানা দুই ওভারে ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন। ১৪তম ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক ক্রেইগ ব্রাফেটকে এলবিডব্লু করেন, আর ১৬তম ওভারে কিচি কার্টিকে মিড অনে সহজ ক্যাচে ফিরিয়ে দেন।

তৃতীয় উইকেটে কাভেম হজ ও লুইস ১৩০ বল খেলে ৫৯ রানের জুটি গড়েছিলেন, কিন্তু ৩৭.৩ ওভারে হজ রান আউট হলে এই জুটি ভাঙে। আগামীকাল দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে যত দ্রুত সম্ভব অলআউট করতে চাইবে।

বাংলাদেশের পক্ষে ২ উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ, ১টি করে উইকেট নিয়েছেন তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস: ৮৪ ওভারে ৫ উইকেটে ২৫০ (লুইস ৯৭, অ্যাথানেজ ৯০, হজ ২৫, দা সিলভা ১৪*, গ্রিভস ১১, ব্রাফেট ৪, কার্টি ০; তাসকিন ২/৪৬, মিরাজ ১/৪৭, তাইজুল ১/৬৭, শরীফুল ০/২৭, হাসান ০/৫৪)।
—প্রথম দিন শেষে।

সুইপে অ্যাথানেজের আউট, সেঞ্চুরি হলো না
আরেকটি নার্ভাস নাইন্টিজ! আরেকটি উইকেট! ম্যাচের রং কত দ্রুত পাল্টাতে পারে!

লুইস ও অ্যাথানেজের জুটির ব্যাটিংয়ের সময় বাংলাদেশ ছিল বেশ পেছনে। দুজনেই সেঞ্চুরির খুব কাছাকাছি ছিলেন। কিন্তু ৭৪.২ ওভারে লুইস ৯৭ রানে আউট হওয়ার মাত্র ১৯ বল পর, অ্যাথানেজও ব্যক্তিগত ৯০ রানে সুইপ শটে আউট হয়ে যান। এতে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ, আর এখন চাপের মধ্যে পড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

সুইপে আউট হয়ে ১৩০ বলে ৯০ রানে থামলেন অ্যাথানেজ

১৩০ বল খেলে ৯০ রানে আউট হওয়ার আগে বেশ কিছু রান করেন সুইপ ও রিভার্স সুইপে। নার্ভাস নাইন্টিজের চাপ কাটিয়ে উঠতেই সম্ভবত ৭৭.৪ ওভারে তাইজুল ইসলামের বল সুইপ করার চেষ্টা করেছিলেন অ্যাথানেজ। কিন্তু ঠিকমতো শটটি খেলতে পারেননি, আর বলটি লিটন দাসের মাথার ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে সহজ ক্যাচে পরিণত হয়।

অ্যাথানেজ, যিনি ক্যারিয়ারের ১০ম টেস্ট খেলতে নামেন, তার জন্য এটি ছিল তাঁর সর্বশেষ ৪ ইনিংসের মধ্যে দ্বিতীয়বার নব্বই রানে আউট হওয়া। টেস্ট ক্রিকেটে এখনো প্রথম সেঞ্চুরির অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।

ক্রিজে নতুন ব্যাটসম্যান জশুয়া দা সিলভা গ্রিভসের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। ৮০ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ৫ উইকেটে ২৩৫। নতুন বল হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ।

মিরাজই ফেরালেন লুইসকে, সেঞ্চুরি হলো না

লুইস ৯০ রানে থাকতেই স্লিপে তাঁর ক্যাচ ছেড়েছিলেন মিরাজ, কিন্তু ৯৭ রানে এসে আবার সেই স্লিপে ক্যাচ দিলেন। এবার শাহাদাত হোসেন ক্যাচটি ধরে মিরাজের সেই ভুল প্রায়শ্চিত্ত করলেন। ৭৫তম ওভারের দ্বিতীয় বলে লুইসকে ফিরিয়ে দেন মিরাজ, ২১৮ বল খেলে ৪৫ রান করে তিনি আউট হন।

লুইস নার্ভাস নাইন্টিজের চাপের মধ্যে ছিলেন। ৬৪তম ওভারে যখন তার রান ৯০, অ্যাথানেজ অপর প্রান্তে ৪৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। এরপর লুইস আরও ৭ রান যোগ করার সময় অ্যাথানেজ পৌঁছান ৮৯ রানে। প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির জন্য বেশ চাপ অনুভব করছিলেন লুইস, আর ৯০ পেরিয়ে বেশ কিছু আলগা শটও খেলেন। শেষপর্যন্ত সেই শটেই আউট হন। এর মাধ্যমে চতুর্থ উইকেটে তাদের ১৪০ রানের জুটি ভাঙে। ২২১ বল খেলে লুইসের অবদান ছিল ১০২ বলে ৪৫ রান, আর অ্যাথানেজের ১১৯ বলে ৮৯ রান।

ক্রিজে নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে যোগ দিয়েছেন জাস্টিন গ্রিভস। ৭৭ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ৪ উইকেটে ২২৭।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২০০ রান পূর্ণ

তাসকিনের করা ৭১তম ওভারের প্রথম দুই বলেই চার মেরে দলীয় স্কোর ২০০ পার করেন অ্যাথানেজ। ক্রিজে তাঁর সঙ্গে ভালো সঙ্গত করছেন লুইস, এবং দ্রুত রান তুলছেন দুজনেই। শেষ সেশনে এ পর্যন্ত ১৭ ওভার খেলা হয়েছে, যেখানে কোনো উইকেট না হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৮৮ রান সংগ্রহ করেছে। লুইস ও অ্যাথানেজ ওভারপ্রতি গড়ে ৫.১৭ রান তুলছেন।

৭১ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ৩ উইকেটে ২০৪। লুইস ৯৫ ও অ্যাথানেজ ৭১ রানে ব্যাট করছেন।

লুইস-অ্যাথানেজ জুটির ১০০ রানের জুটি

তাইজুলের করা ৬৭তম ওভারের পঞ্চম বল থেকে ২ রান নিয়ে চতুর্থ উইকেট জুটিতে ১০০ রান পার করেন লুইস ও অ্যাথানেজ। এখন পর্যন্ত তাদের জুটি দাঁড়িয়েছে ১০৩ রানে।

৬৭ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ৩ উইকেটে ১৮৭।

তৃতীয় সেশনে রানের গতি বাড়াচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

প্রথম সেশনে যেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওভারপ্রতি গড়ে ২.১৭ রান তুলেছিল, দ্বিতীয় সেশনে সে গতি আরও ধীর হয়ে ২.১২ হয়ে যায়, যা দেখে মনে হচ্ছিল যেন ৮০-৯০ দশকের টেস্ট ক্রিকেট ফিরে এসেছে। তবে তৃতীয় সেশনে দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করেছে। ৯ ওভার শেষে এখন পর্যন্ত ৫২ রান এসেছে, অর্থাৎ এই সময়ে ওভারপ্রতি গড়ে রান উঠেছে ৫.৭৭!

লুইস এবং অ্যাথানেজ দুজনেই নিজেদের সুযোগ বুঝে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করছেন। শরীফুল প্রথম স্পেলে ফুল লেংথে বল করেছেন, তবে তাকে কয়েকটি চারও হজম করতে হয়েছে। মিরাজও বাতাসে বল ভাসিয়েছেন, আর ফলস্বরূপ লুইস ডাউন দ্য উইকেট এসে ছক্কা মেরেছেন। দুজনের জুটিতে এখন পর্যন্ত ৮৫ রান জমেছে।

লুইস ৮৬ ও অ্যাথানেজ ৪৮ রানে ব্যাট করছেন। ৬৩ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ৩ উইকেটে ১৬৮।

ধারাভাষ্য কক্ষে ইয়ান বিশপ এবং কার্টলি অ্যামব্রোস বাংলাদেশের পেসারদের পরামর্শ দিয়েছেন, স্লিপের পাশাপাশি গালি এবং ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ফিল্ডার রেখে বল করতে। এতে ব্যাটসম্যানরা ফুল লেংথে ড্রাইভ করলে ক্যাচের সুযোগ বাড়বে।


৫০ রানের জুটি

চা বিরতির পর তৃতীয় সেশনের শুরুতে উইকেট নেওয়ার উদ্দেশ্যে শরীফুল ও হাসান মাহমুদকে আক্রমণে নিয়ে আসেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ, তবে কোনো উইকেটের দেখা মেলেনি। উল্টো, দ্বিতীয় ওভারে হাসানকে দুটি চার মেরে অ্যাথানেজ আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন। অন্য প্রান্তে লুইস শান্তভাবে সেঞ্চুরির লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করছেন। চতুর্থ উইকেটে দুজনের মধ্যে ইতিমধ্যেই ৫০ রানের জুটি হয়ে গেছে।

অ্যাথানেজ ৩৪ ও লুইস ৭৬ রানে ব্যাট করছেন। ৬০ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ৩ উইকেটে ১৪৫।


দারুণ ব্যাটিং করছেন লুইস

লুইস দারুণ ব্যাটিং করে চলেছেন, ১৬৬ বল খেলে ৭১ রানে অপরাজিত আছেন। তার ও অ্যাথানেজের সাবধানী ব্যাটিংয়ের মধ্য দিয়ে চতুর্থ উইকেটে ৯৯ বল খেলে ৩২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছেন।

চা বিরতির আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান: ৩ উইকেটে ১১৬ (২১ নভেম্বর ২০২৪, ১৯:৪৯)


ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১০০ রান

চতুর্থ উইকেটে লুইস ও অ্যাথানেজ সাবধানে ব্যাটিং করছেন। ৭৯ বল খেলে তারা ২০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছেন, আর দলীয় সংগ্রহ ১০০ রান পার করেছে।

৫১ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ৩ উইকেটে ১১০।

তাসকিনের ৫১তম ওভারের শেষ বলে লুইস মারলেন দারুণ একটি চার।


আকাশে ওঠা বল, মাটিতে পড়ল নিরাপদে

মিরাজের বল থেকে বড় শট খেলতে চেয়েছিলেন অ্যাথানেজ। কিন্তু বলটি আকাশে উঠে যায় এবং মিড অনে ক্যাচ ধরার জন্য দৌড়ান তাসকিন আহমেদ। তবে বলটি তাসকিনের নাগালের বাইরে চলে যায়, ফলে বেঁচে যান অ্যাথানেজ। ৪৪ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ৩ উইকেটে ৯৬।


ফিরলেন হজ

মিরাজের বলটি লেগ সাইডে ঠেলে দিয়ে প্রথম রান নিতে গিয়ে দ্বিতীয় রান নিতে ছুটেছিলেন কাভেম হজ। কিন্তু ফাইন লেগ থেকে তাইজুল ইসলামের থ্রো স্টাম্প ভেঙে দিয়ে তাঁকে রান আউট করেন। ৬৩ বল খেলে ২৫ রান করা হজের সঙ্গে ভাঙল ১৩০ বলের ৫৯ রানের তৃতীয় উইকেট জুটি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ৩ উইকেটে ৮৪।

Post a Comment

0 Comments