Advertisement

হাসিনার তৈরি ফাঁদেই আটকা পড়েছে আওয়ামী লীগ!

 


বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গণহত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিচারকাজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল, যা যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা, মানবতা ও শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার করে, ২০১০ সালের ২৫ মার্চ আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিষ্ঠা করে। এরপর থেকেই বিরোধী দল দমন করতে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বিচার শুরু হয়। জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লাকে ২০১০ সালের ১৪ অক্টোবর গ্রেফতার করা হয় এবং পরবর্তী বছর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ ও সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। প্রথমে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হলেও তরুণদের আন্দোলনের চাপের পর তাকে যুদ্ধাপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি, মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হয়। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে সময় লাগে মাত্র তিন বছর এক মাস। জামায়াতের আরও নেতা—মোহাম্মদ কামারুজ্জামান, আলী আহসান মোহাম্মদ মোজাহিদ, সালাউদ্দিন চৌধুরী, মতিউর রহমান নিজামী এবং মীর কাশেম আলীর মতো ব্যক্তিরাও যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত হয়ে দণ্ডিত হন।

এখন, শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের প্রায় সব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী মামলা চলমান। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলি চালানোর নির্দেশদাতা হিসেবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিচার দাবী উঠেছে, এবং এরই প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে বিচারকাজ শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, এটির ফলে কর্মফল ভোগের সময় এসে পৌঁছেছে এবং আওয়ামী লীগের নেতারা হয়তো তাদের অবস্থার মতোই বিচার পাবেন, যেমনটা হয়েছে নিজামী বা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ক্ষেত্রে।

আওয়ামী লীগের তৈরি আইনের আওতায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল তাদের বিচার শুরু করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হাসিনার আমলে প্রতিষ্ঠিত এই ট্রাইবুনালে আওয়ামী লীগের নেতারা নিজেদের ফাঁদে আটকা পড়তে পারেন। ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল আইন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধের বিচার হওয়ার কথা ছিল, তবে এই আইন সংস্কার না করে ট্রাইবুনাল চালু হওয়ায় এর কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সুপ্রিম কোর্টের একজন সিনিয়র আইনজীবী বলছেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার এই আইনে করা হলে বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, এই ট্রাইবুনাল বিগত সরকারের মতো হবে, নাকি তারা বিচার প্রক্রিয়ায় সচ্ছতা নিশ্চিত করবে।

Post a Comment

0 Comments