মেক্সিকো, কানাডা এবং চীনা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প। সীমান্তে অনিয়মিত প্রবাহ এবং মাদক পাচারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হিসেবে এই শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, মেক্সিকো ও কানাডা থেকে আমদানিকৃত সকল পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে, এবং চীনা পণ্যের ওপর আরও ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে।
অবৈধ অভিবাসন এবং মাদক পাচার বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই শুল্ক নীতি বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। নির্বাচনের পর প্রথম দিনেই শুল্ক নীতি কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, মেক্সিকো এবং কানাডা উভয়েরই অভিবাসন সমস্যার সমাধান করার ক্ষমতা রয়েছে এবং তারা যদি তা না করে, তবে তাদের এই শুল্কের মাধ্যমে শাস্তি ভোগ করতে হবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, চীনা পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে, এবং চীনা কর্তৃপক্ষ মাদক পাচারকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি না দিলে এই শুল্ক নীতি চালু থাকবে। তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় চীনা পণ্যের ওপর ৬০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এছাড়া, মেক্সিকো থেকে আমদানিকৃত যানবাহনের ওপর ১,০০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছিলেন।
চীনের কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তারা মাদক পাচারকারীদের মৃত্যুদণ্ড প্রদান করবে, কিন্তু ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে চীন এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি এবং তারা মেক্সিকোর মাধ্যমে মাদক যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করছে।
এদিকে, ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর কানাডা ও চীনের প্রতিক্রিয়া এসেছে। কানাডার উপ-প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, বিশেষ করে বাণিজ্য এবং সীমান্ত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে। তিনি আরও জানান, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সীমান্তের অখণ্ডতা এবং নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়।
চীনের পক্ষ থেকেও প্রতিক্রিয়া এসেছে, যেখানে তারা বলেছেন, বাণিজ্য যুদ্ধে কোনো পক্ষই সফল হতে পারে না এবং চীন-মার্কিন অর্থনৈতিক সম্পর্ক প্রকৃতিগতভাবে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই বাণিজ্য নীতি বিশ্বব্যাপী বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।



0 Comments