বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় রোববার (১ ডিসেম্বর) হাইকোর্ট ঘোষণা করবেন।
শনিবার (৩০ নভেম্বর) আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ রায় ঘোষণা করা হবে।
গত ৩১ অক্টোবর শুরু হয় বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট, রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় ২০১৮ সালে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নূরউদ্দিন রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ২০০১-২০০৬ ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু এবং ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম ও আসামি শেখ আবদুস সালাম ২০২১ সালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বিএনপির নেতা হারিছ চৌধুরী, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইনসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন সাজা দেয়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে ১১ জনকে দণ্ডিত করেন বিচারিক আদালত। পরবর্তীতে একই বছর হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স এবং দণ্ডিত আসামিদের আপিল আসে।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় মতিঝিল থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা হয়। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এই মামলাগুলোর নতুন করে তদন্ত শুরু করে। ২০০৮ সালে সিআইডি ২২ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মামলার অধিকতর তদন্ত হয়, এবং তারেক রহমানসহ ৩০ জনকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয়া হয়। ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এই মামলার রায় দেন। রায়ের পর, বিচারিক আদালতের রায়সহ মামলার নথিপত্র হাইকোর্টে পৌঁছায়। পেপার বুক প্রস্তুতসহ যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষে, এখন হাইকোর্টে রায়ের অপেক্ষা।
এ মামলায় বিএনপি'র শীর্ষ নেতৃত্বকে অভিযুক্ত করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দলটি বারবার দাবি করে আসছে।



0 Comments