Advertisement

আইনজীবী হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।

 
চট্টগ্রামে আইনজীবী হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। একই সঙ্গে তিনি ইসকন নিষিদ্ধ করারও দাবি তুলেছেন।  

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, "আমাদের দেশে সব ধর্মের সহাবস্থান থাকবে, এবং আমরা সবার অধিকার রক্ষায় কাজ করব। তবে ধর্মের নামে উগ্রবাদী সংগঠন পরিচালনা করলে তাদের বাংলাদেশে এক ইঞ্চি জায়গাও দেওয়া হবে না। আমার ভাই সাইফুলকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। ইসকনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করতে হবে।"

আজ বুধবার চট্টগ্রাম নগরের টাইগার পাস মোড়ে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। এ সময় তিনি স্লোগান দেন, "এই ইসকন জঙ্গি, তারা স্বৈরাচারের সঙ্গী।"  

এর আগে, বেলা সাড়ে ১১টায় নগরের জামিয়াতুল ফালাহ জামে মসজিদে নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলামের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম। জানাজার পর তাঁদের নেতৃত্বে প্রায় এক হাজার মানুষ টাইগার পাস মোড়ে জড়ো হন। সেখানে ইসকনকে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধের দাবিতে স্লোগান দেওয়া হয় এবং একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে হাসনাত আবদুল্লাহর পাশাপাশি বক্তব্য রাখেন জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাসেল আহমেদ, এবং কেন্দ্রীয় সহসমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ। বক্তারা সবাই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনজীবী হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানান।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আমরা ভুলে যাইনি, কীভাবে ইসকন স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের সহযোগিতায় ভারতের প্রেসক্রিপশনে বাংলাদেশে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ভারতে বসে যত ষড়যন্ত্রই হোক, বাংলাদেশের মানুষ তা রুখে দেবে। বিদেশ থেকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শক্তি যে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে, আমরা সাফ জানিয়ে দিচ্ছি—আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন এ দেশে কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।”

সারজিস আলম বলেন, “আমরা সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু কেউ যদি আমাদের সহানুভূতিকে দুর্বলতা ভেবে সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে ছাড় দেওয়া হবে না। চট্টগ্রামে ইসকনের কোনো জায়গা হবে না। আমরা ১৬ বছরের খুনি হাসিনাকে দেশছাড়া করেছি, জঙ্গি ইসকনকেও দেশছাড়া করা আমাদের কাছে কোনো কঠিন কাজ নয়।”

অন্য বক্তারা বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাইয়েরা এখনো শান্তিপূর্ণ ও সচেতন রয়েছেন, কিন্তু ইসকনের সন্ত্রাসীরা তাঁদের বিভ্রান্ত করছে। এই জঙ্গি ও সন্ত্রাসী সংগঠনকে দ্রুত নিষিদ্ধ করতে হবে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় ছাত্র-জনতা রাজপথ ছাড়বে না।

Post a Comment

0 Comments