জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে একটি মোর্চা গঠন করতে চায় বেশ কিছু ইসলামী দল। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই মোর্চা গঠনের বিষয়ে সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। তবে, দলগুলো নতুন রাজনৈতিক জোট গঠন করবে নাকি সমঝোতার ভিত্তিতে আলাদা আলাদা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে—এটি এখনো স্পষ্ট নয়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর চরমোনাইয়ের পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমসহ দলটির নেতারা খেলাফত মজলিসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা হলে, একক প্ল্যাটফর্মে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই ক্ষেত্রে ইসলামপন্থি দলের একক প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চিন্তা রয়েছে। আপাতত জামায়াতে ইসলামীর বাইরে যেসব ইসলামী দল রয়েছে তাদের নিয়ে মোর্চা গঠনের চিন্তা করা হচ্ছে, যদিও পরিস্থিতির পরিবর্তনের সাথে এ পরিকল্পনা পরিবর্তিত হতে পারে। কারণ, জামায়াত কী কৌশল নেবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সূত্র জানায়, ইসলামপন্থি দলগুলোর বৈঠকে জামায়াতকে নিয়ে বৃহৎ ঐক্য গঠন করতেও আলোচনা হচ্ছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা ইউনুছ আহমাদ মানবজমিনকে বলেন, "ইসলামপন্থি সমমনা দলগুলোর সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হলো, আমরা সবাই একসঙ্গে পথ চলবো। তাই যদি ঐক্য হয়, আমরা একসঙ্গে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। তবে এখনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি এবং আরও আলোচনা হতে হবে।"
ইসলামী আন্দোলন সূত্রে জানানো হয়, ঐক্য গঠনের লক্ষ্যে ইসলামপন্থি দলগুলোর সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক চলমান রয়েছে। গত সপ্তাহে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং চলতি সপ্তাহে আরও দু'টি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ডিসেম্বরে একটি বৈঠক আয়োজন করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। যদি আলোচনা সফল হয়, তাহলে ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলামী দলগুলোর ঐক্যের ঘোষণা আসতে পারে।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী মানবজমিনকে বলেন, "মুলত ইসলামপন্থি দলগুলোর মধ্যে ঐক্য আনতে আলোচনা চলছে। এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে আলোচনা অব্যাহত আছে।"
খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী মানবজমিনকে বলেন, "ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আমাদের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেছে এবং ইসলামপন্থি দলগুলোর ঐক্য গড়ার চেষ্টা চলছে। আলেম-ওলামাদের এক প্ল্যাটফর্মে এনে নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।"
৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ধর্মভিত্তিক দলগুলো আবারো তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই দলগুলোকে এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। এরই অংশ হিসেবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম ইতিমধ্যে প্রায় সব ইসলামী দলের সাথে বৈঠক করেছেন। দলটির নেতারা মনে করছেন, যদি সব ইসলামী দল এক প্ল্যাটফর্মে আসে, তবে তারা নির্বাচনে সমঝোতার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সক্ষম হবে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও দরকষাকষিতে তাদের অবস্থান শক্ত হবে। এছাড়া, নির্বাচনের পূর্বে সরকার যে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে এই দলগুলোর পূর্ণ সমর্থন থাকবে এবং তারা নির্বাচনের আগেই গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার সম্পন্ন করতে সরকারকে সহযোগিতা করতে চায়।



0 Comments