বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি গঠনে পরিবর্তন আনার বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, বিদ্যমান প্রবিধানমালায় সংশোধন এনে অ্যাডহক কমিটি গঠনের মাধ্যমে ছয় মাসের মধ্যে নিয়মিত কমিটি গঠনের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নতুন পরিবর্তন ও নির্দেশনা:
১. সভাপতি মনোনয়ন প্রক্রিয়া পরিবর্তন:
আগের নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করে সভাপতি মনোনীত করা হতো। নতুন নিয়মে মহানগরীর ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনার এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে সভাপতি মনোনীত করতে হবে।
২. অ্যাডহক কমিটি গঠন:
কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে কমিটি গঠন করতে ব্যর্থ হলে, চার সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটির সদস্যরা হলেন:
- শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক মনোনীত সভাপতি
- জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি
- জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মনোনীত অভিভাবক প্রতিনিধি
- প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক (পদাধিকার বলে সদস্য-সচিব)।
৩. সমন্বয় ও অনুমোদন:
অ্যাডহক কমিটি গঠনের অনুমোদন নিতে শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করতে হবে। অনুমোদনের পর এক মাসের মধ্যে কমিটি গঠন করে কার্যক্রম শুরু করতে হবে।
৪. মেয়াদের সীমাবদ্ধতা:
অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ হবে ছয় মাস। নির্ধারিত সময়ে নিয়মিত কমিটি গঠন না হলে, সর্বোচ্চ দুইবার অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ বাড়ানো যাবে। তবে বারবার ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট সদস্যরা দুই বছরের জন্য কমিটির পদে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
৫. পুরাতন প্রবিধানমালার বাতিলকরণ:
নতুন প্রবিধানমালার কার্যকারিতা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ২০০৯ সালের প্রবিধানমালা বাতিল হবে।
বিশেষ প্রেক্ষাপট:
রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর, নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালনা কমিটির কার্যক্রমে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ভূমিকাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, রাজনৈতিক সরকার না থাকায় এই পরিবর্তন এখন তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর নাও হতে পারে।
এ নির্দেশনা কার্যকর হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি গঠনে নতুন মাত্রা যোগ হবে এবং এটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা আনার পাশাপাশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।




0 Comments