Advertisement

গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের 'জাতীয় বীর' হিসেবে স্বীকৃতি দিন : ডা. শফিকুর

২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের 'জাতীয় বীর' স্বীকৃতি দাবি জামায়াত আমিরের  

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ অভ্যুত্থানে দেশের সব শ্রেণির মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। এমনকি প্রবাসীরাও তাদের সাধ্য অনুযায়ী এই লড়াইয়ে অবদান রেখেছেন। তিনি অভ্যুত্থানের শহীদদের রুহের মাগফিরাত ও শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা কামনা করেন এবং সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।  

১৯ নভেম্বর, মঙ্গলবার পূর্ব লন্ডনের একটি রেস্তোরাঁয় যুক্তরাজ্যের বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।  

                                                                                 

প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান  

ডা. শফিক বলেন, প্রবাসীরা রেমিট্যান্সের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তিনি প্রবাসীদের প্রতি আর্থিক রেমিট্যান্সের পাশাপাশি “ইন্টেলিজেন্স রেমিট্যান্স” পাঠানোর আহ্বান জানান। তার মতে, এ ধরনের জ্ঞান ও দক্ষতার রেমিট্যান্স দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়নে সহায়তা করবে এবং স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসীরা আরও অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।  

দুর্নীতির সমালোচনা  

পূর্ববর্তী সরকারের দুর্নীতি নিয়ে তিনি বলেন, “যে পরিমাণ উন্নয়ন হওয়া উচিত ছিল, তা হয়নি। বাংলাদেশে একটি উন্নয়ন প্রকল্পে যে ব্যয় দেখানো হয়, তা আমাদের অঞ্চলের অন্যান্য দেশে একই প্রকল্পের তুলনায় তিন গুণ বেশি। সময়মতো প্রকল্প শেষ না করে ব্যয় বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে, আর এভাবেই দেশকে লুটপাট করা হয়েছে।”  

একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য  

একাত্তরে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যদি আমরা ভুল করে থাকি এবং তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়, তবে আমি জাতির কাছে ক্ষমা চাইব।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ব্রিটেনে চৌধুরী মাইনুদ্দিনের বিচারের রায়ের পর্যবেক্ষণে ওয়ার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের বিচারকে “জেনোসাইড অব জাস্টিস” বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।  

তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছর ধরে তাদের দলকে দমন করা হয়েছে। “আমাদের কথা বলতে দেওয়া হয়নি, র‍্যালি করতে দেওয়া হয়নি, এমনকি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছানোর সুযোগও পাওয়া যায়নি,” বলেন তিনি।  

দুর্নীতিকে জাতীয় লজ্জা হিসেবে উল্লেখ  

ডা. শফিক বলেন, “জাতিগত অনৈক্য ও দুর্নীতি আমাদের অগ্রগতির প্রধান বাধা। দুর্নীতি আমাদের জন্য জাতীয় লজ্জার বিষয়। সমাজ পরিচালনাকারীরা যদি পরিচ্ছন্ন না হন, তবে সমাজ কখনোই উন্নত হবে না।”  

অনুষ্ঠানের অন্যান্য দিক 

অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর ইউরোপীয় মুখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা উপস্থিত ছিলেন। আবু সালেহ ইয়াহইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠান শুরু হয় কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে, যা করেন ইমাম উদ্দিন। দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন শিল্পী কামাল হোসাইন। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বাংলা মিডিয়ার ৫০ জনের বেশি সাংবাদিক এতে অংশগ্রহণ করেন।  


 

Post a Comment

0 Comments