জামায়াতের ভুল প্রমাণিত হলে ক্ষমা চাইবেন: ডা. শফিকুর রহমান
যদি একাত্তরে জামায়াতে ইসলামী কোনো ভুল করে থাকে এবং তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়, তাহলে দলীয়ভাবে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি এ মন্তব্য করেন মঙ্গলবার পূর্ব লন্ডনের একটি রেস্টুরেন্টে যুক্তরাজ্যে বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ব্রিটেনের কোর্টে চৌধুরী মাইনুদ্দিনের বিচারের পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশের ওয়ার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমকে 'ন্যায়বিচারের পরিপন্থী' বা 'জেনোসাইড অব জাস্টিস' বলা হয়েছে। আমাদের গত ১৫ বছর ধরে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়নি, অফিসে বসতে দেওয়া হয়নি, র্যালি করা বা মত প্রকাশের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ফলে জনগণের কাছে যাওয়ার পথও রুদ্ধ ছিল।”
তিনি দুর্নীতি ও জাতিগত অনৈক্যের প্রসঙ্গে বলেন, “দুর্নীতি আমাদের জন্য জাতীয় লজ্জা। যারা সমাজ পরিচালনা করবেন, তাদের সৎ ও পরিচ্ছন্ন হওয়া প্রয়োজন। যুক্তরাজ্য দুর্নীতি কমাতে সক্ষম হওয়ায় বিশ্বে মর্যাদাপূর্ণ স্থান অর্জন করেছে, কিন্তু আমরা তা পারিনি।”
গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের সম্মান দাবি
২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান ডা. শফিক। তিনি বলেন, “এ অভ্যুত্থানে দেশের সকল শ্রেণির মানুষ অংশগ্রহণ করেছিলেন। এমনকি প্রবাসীরাও যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করেছেন। আমরা তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”
প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান
রেমিট্যান্সের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের আমির বলেন, “প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তবে অর্থনৈতিক সহায়তার পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক সহায়তা বা ‘ইন্টেলিজেন্স রেমিট্যান্স’ পাঠানোর আহ্বান জানাই। এটি দেশের মানসিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশে সহায়ক হবে। প্রবাসীরা এভাবেই স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে বড় ভূমিকা রাখতে পারবেন।”
দুর্নীতি ও উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের সমালোচনা
বিগত সরকারের দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ব্যয় আমাদের অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তুলনায় তিন গুণ বেশি দেখানো হয়েছে। প্রকল্পের কাজ সময়মতো শেষ হয়নি, বারবার সময় ও ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। এভাবে দেশকে লুটপাট করে নিঃস্ব করা হয়েছে।”
অনুষ্ঠানের অন্যান্য অংশ
অনুষ্ঠানে জামায়াতের ইউরোপীয় মুখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা উপস্থিত ছিলেন। আবু সালেহ ইয়াহইয়ার সঞ্চালনায় কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ইমাম উদ্দিন, আর দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন শিল্পী কামাল হোসাইন। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বাংলা মিডিয়ার ৫০ জনেরও বেশি সাংবাদিক এই আয়োজনে অংশ নেন।



0 Comments