রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, “জুমার দিন হল দিবসসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং এটি আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বেশি সম্মানিত।” (ইবনে মাজাহ : ১০৮৪)
জুমার দিন মুসলিমদের জন্য বিশেষ আমলের দিন। এই দিনে অনেক ফজিলতপূর্ণ আমল করা হয়, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল হলো সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করা। সূরা কাহাফ পবিত্র কোরআনের একটি বিশেষ সূরা, যা আমাদের জীবনের নানা দিক থেকে শিক্ষা দেয়, যেমন আসহাবে কাহফের গল্প, মুসা (আ.) ও খিজির (আ.)-এর গল্প, এবং জুলকারনাইনের গল্প। যারা পুরো সূরা তেলাওয়াত করতে পারেন না, তাদের জন্য সূরার প্রথম এবং শেষ ১০ আয়াত তেলাওয়াত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হাদিসে বলা হয়েছে, "যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে মুক্তি পাবে।” (মুসলিম শরিফ)
জুমার দিনে সূরা কাহাফ তেলাওয়াতের অনেক ফজিলত রয়েছে:
-
আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে বলা হয়েছে, "যে ব্যক্তি জুমার রাত (শুক্রবার) সূরা আল-কাহফ তিলাওয়াত করবে, তার জন্য এক আলো সৃষ্টি হবে যা কাবাঘর পর্যন্ত প্রসারিত হবে।" (সহিহ তারগীব ওয়াত্ তারহীব - ৭৩৬)
-
মুসনাদে আহমদে হজরত সাহল ইবনে মুয়াজের রেওয়াতে আছে, "যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের প্রথম ও শেষ আয়াতগুলো পাঠ করে, তার জন্য তার পা থেকে মাথা পর্যন্ত একটি নূর হয়ে যায়। আর যে ব্যক্তি সম্পূর্ণ সূরা পাঠ করে, তার জন্য জমিন থেকে আসমান পর্যন্ত নূর হয়ে যায়।"
-
আরেক হাদিসে ইবনে উমর (রা.) হতে বর্ণিত, "যে ব্যক্তি জুমার দিনে সূরা কাহাফ পাঠ করবে, কিয়ামত দিবসে তার পায়ের নীচ থেকে আকাশের মেঘমালা পর্যন্ত নূর আলোকিত হবে এবং দুই জুমার মধ্যবর্তী গুনাহ মাফ হবে।" (আত তারগীব ওয়াল তারহীব- ১/২৯৮)
-
রাসূল (সা.) আরও বলেছেন, "যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহাফ পাঠ করবে, সে আট দিন পর্যন্ত সব ধরনের ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকবে। যদি দাজ্জাল বের হয়, তবে তার ফেতনা থেকেও নিরাপদ থাকবে।"



0 Comments