ব্যবসায়ী কামরুল বলেন, “আমার চোখের সামনে তিন-চারটি লাশ পড়ে যেতে দেখেছি। এক জায়গায় মাসুদ ভাই, আমি এবং ওসমান ছিলাম। হঠাৎ করে মাসুদ ভাই রাস্তার উপর পড়ে যান। কিছু সময় পর দেখলাম, তাঁর মাথা থেকে রক্ত ঝরছে। তাঁকে দ্রুত আলোক হাসপাতালে নিয়ে যাই।”
মিরপুর ১০ নম্বরে হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া গুলি মাসুদের মাথায় লাগে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সাড়ে তিন বছর ধরে তার মেয়ে আরাবী খুঁজে বেড়াচ্ছে তার বাবাকে।
মাসুদের স্ত্রী বলেন, “হাসপাতালে আমি এবং বাবু তার শরীরের প্রতিটি অংশে হাত বুলিয়ে দিয়েছি, তার সঙ্গে কথা বলেছি। তখনও মনে হয়নি কিছু হতে পারে। শুধু মনে হচ্ছিল, সে কিছু হবে না, দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে।”
সেই আন্দোলনে আহত অনেকেই এখনও হাসপাতালে যন্ত্রণা সহ্য করে লড়াই করছেন। ১৮ জুলাই আহত হওয়ার পর হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে গায়েবী মামলা করা হয়েছে।
চা বিক্রেতা বাবার সঙ্গে রাব্বীর শেষ দেখা হয় ৫ আগস্ট সন্ধ্যায়। ঘণ্টাখানেক পর খবর আসে, গুলির আঘাতে নিহত হয়েছেন ১২ বছর বয়সী এই মাদ্রাসাছাত্র। এরপর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের চাপে দ্রুত দাফন করতে হয়।
রাব্বীর বাবা বলেন, "আমার ছেলে মারা যাওয়ার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দ্রুত দাফনের জন্য চাপ দেয়। উপায় না পেয়ে দ্রুত জানাজা পড়ে দাফন করা হয় আমার ছেলে। আমার ছেলে বারবার মনে পড়ে।"
মাত্র আঠারো দিনের ব্যবধানে এক পরিবার থেকে হারিয়ে গেছে দুই সদস্য—আকরাম খান রাব্বী এবং মেহেরুন নেছা তানহা। পরিবারটি এখনও শোকস্তব্ধ।
আহত কিংবা নিহত পরিবারের আর্তনাদে এখন একটাই দাবি—ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।



0 Comments