বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন যে, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা একটি "রাজকীয় দল" বা "কিংস পার্টি" গঠনের চেষ্টা করছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, “আপনারা কোন পথে যেতে চান? আমরা শুনছি, একটি রাজকীয় দল গঠনের চেষ্টা চলছে। মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীন যে চেষ্টা করেছিলেন, শেখ হাসিনা গোয়েন্দাদের দিয়ে যে কাজ করেছিলেন, এখনো সেই একই ধরনের প্রচেষ্টা চলছে বলে আমরা জানতে পারছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা শুনেছি, গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মানুষজনকে বলছে, ‘অমুক অমুক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’ এটি তো তাদের কাজ নয়। এমন হলে জনগণের আত্মত্যাগের কী অর্থ থাকে? যদি এমন পরিস্থিতি ফিরে আসে, যেখানে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নির্ধারণ করবে কারা নির্বাচিত হবেন বা কোন রাজনৈতিক দল গঠন করবেন, তাহলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সার্থকতা আর কী থাকবে?”
সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ন্যাশনালিস্ট এক্স স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত ‘২২ ডিসেম্বর: রক্তাক্ত মতিহার ও রিজভী আহমেদ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় একত্রিত হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
রিজভী বলেন, "বাংলাদেশে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন, যেখানে মানুষ যেই রাজনৈতিক দলকে পছন্দ করবে, তারা সেই দলকে ভোট দিতে পারবে এবং যে কেউ যে রাজনৈতিক দল গঠন করতে চায়, তা করতে পারবে। এখানে কোনো নির্দেশনা, হুমকি বা রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ থাকবে না। এটাই প্রকৃত গণতান্ত্রিক সমাজ এবং রাষ্ট্র। যদি মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীন, হোসাইন মুহম্মদ এরশাদ এবং শেখ হাসিনার মতো একই সংস্কৃতি পুনরাবৃত্তি হয়, তাহলে মানুষ মনে করবে আরেকটি ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। এটি হতে দেওয়া যাবে না।"
সচিবালয়ের অগ্নিকাণ্ডে জনমনে প্রশ্ন
রিজভী বলেন, "আমরা সংবাদপত্রে দেখেছি যে, সরকারের পক্ষ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি চাওয়া হয়েছে। ওই নথি চাওয়ার পরই গভীর রাতে সচিবালয়ে আগুন লেগেছে, যা জনগণের মধ্যে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আমি মনে করি, এ বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। কারণ, শেখ হাসিনা এবং তার সহযোগীদের নথি চাওয়ার পর সচিবালয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি পুড়ে গেছে এবং ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা মানুষের মধ্যে সন্দেহ ও প্রশ্ন তৈরি করেছে।"
তিনি আরও বলেন, "বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা চারিদিকের নানা ঘটনায় শঙ্কিত ও ভীত। আমাদের ভয় ব্যক্তিগত নয়, রাষ্ট্র নিয়ে। আমরা পূর্বেও দেখেছি, যখন কোনো সচিব বা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিবাদ উঠে, তখনই সচিবালয়ে ফাইল গায়েব হয়ে যায় বা সেখানে আগুন ধরে যায়।"
সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট বাহাউদ্দিন বাহারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মল্লিক মো: মোকাম্মেল কবীরের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্যে হাবিবুর রহমান হাবিব, মীর সরাফত আলী সপু, সৈয়দ শাহীন শওকত, ওবায়দুর রহমান চন্দন, রমেশ দত্তসহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতারা বক্তব্য রাখেন।



0 Comments