তবে এনসিটিবি আশ্বস্ত করছে যে, জানুয়ারির ১ তারিখের মধ্যেই সব বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। যদিও মুদ্রণ সম্পন্ন হওয়ার পর বইগুলো জেলা, উপজেলা এবং স্কুল পর্যায়ে পৌঁছাতে সময় লাগবে, যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই মুদ্রণের পাশাপাশি বই সরবরাহের বিষয়েও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের জন্য প্রাথমিক স্তরের প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৯ কোটি ৬৪ লাখ ৮২৫ কপি বই প্রয়োজন। এর মধ্যে গত বুধবার পর্যন্ত ৩ কোটি ৯৬ লাখ ৩৫ হাজার ৪২২ কপি বই ছাপা হয়েছে। এখনও ৫ কোটির বেশি বই মুদ্রণ বাকি।
ছাপা বইয়ের মধ্যে ৩ কোটি ২২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৯২ কপি ইতোমধ্যে পোস্ট ডেলিভারি ইন্সপেকশন (পিডিআই) সম্পন্ন হয়েছে। তবে এখনও ৬২ শতাংশ বইয়ের মুদ্রণ বা পিডিআই বাকি। গতকাল রাত পর্যন্ত কিছু বইয়ের মুদ্রণ ও পিডিআই সম্পন্ন হলেও বাকি কাজ সম্পন্ন করা এখন সময়ের বিরুদ্ধে এক দৌড়।
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে ৬২ লাখ ১৮ হাজার ৭৪৪ কপি বইয়ের চাহিদা রয়েছে। প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় শ্রেণির জন্য (৭০ এবং ২৭ লট মিলিয়ে) প্রয়োজন ৪ কোটি ৩৮ লাখ ৬৭ হাজার ৮৫৬ কপি বই। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির জন্য প্রয়োজন ৪ কোটি ৩৬ লাখ ১ হাজার ৪০০ কপি। এ ছাড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য (ব্রেইল বইসহ) চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৮২৫ কপি বই।
তবে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির বই মুদ্রণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পিছিয়ে থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির বই মুদ্রণের জন্য কয়েকজন প্রেস মালিক এনসিটিবিতে আসেন, কিন্তু তারা এখনো চুক্তি সম্পন্ন করেননি। ফলে বই ছাপানোর কাজ কবে শুরু হবে, তা অনিশ্চিত। নতুন বছর শুরু হতে আর মাত্র চার-পাঁচ দিন বাকি থাকায় বাকি বই মুদ্রণ, পিডিআই সম্পন্ন করা এবং সেগুলো জেলা-উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ হবে।
এ প্রসঙ্গে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান জানান, প্রেস মালিকরা আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করলে এখনও সময়ের মধ্যে প্রাথমিকের সব বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানো সম্ভব। তিনি বলেন, “প্রাথমিকের বই মুদ্রণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। ইতোমধ্যে বেশিরভাগ বই ছাপা শেষ হয়েছে। বাকি বই দুই-তিন দিনের মধ্যেই ছাপা শেষ হবে।”
মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবই প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, “আমরা মাধ্যমিকের বই তিন ধাপে বিতরণের পরিকল্পনা করেছি। প্রথম দিনেই বাংলা, ইংরেজি এবং গণিত শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। ১০ জানুয়ারির মধ্যে আরও পাঁচটি বই এবং ২০ জানুয়ারির মধ্যে সব বই বিতরণ শেষ করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। প্রেস মালিক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সহযোগিতায় এটি সম্ভব হবে।”
অন্যদিকে, কয়েকজন প্রেস মালিক জানিয়েছেন, প্রতিদিন এক কোটি বই মুদ্রণ সম্ভব হলেও সময়মতো কাগজ সরবরাহ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তবে বাইন্ডিং, গাম লাগানো এবং কাটিং প্রক্রিয়ায় সময় লাগতে পারে। একই সঙ্গে বিশাল সংখ্যক বই মুদ্রণের কারণে জায়গার সংকট এবং ভুলভ্রান্তির আশঙ্কাও থেকে যাচ্ছে।



0 Comments