Advertisement

মনমোহন সিংয়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

মনমোহন সিংয়ের লাশ শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য - ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া রাজধানী নয়াদিল্লির নিগমবোধ ঘাট শ্মশানে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ৯২ বছর বয়সে বৃহস্পতিবার দিল্লির একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান।

শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে, সকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের লাশ নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দলের নেতাকর্মীরা তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

দেশের সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ও পরিবারের সদস্যরা তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তার কফিন ফুল দিয়ে সাজানো ছিল এবং তা ভারতীয় পতাকায় মোড়ানো ছিল। নিরাপত্তাকর্মীরা আনুষ্ঠানিক গান স্যালুট দিয়ে তাকে সম্মানিত করেন।

পরে সেনাবাহিনীর ঢাকঢোল পিটিয়ে তার লাশ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়।

কংগ্রেস নেতা অভিষেক বিষ্ণোই মন্তব্য করেন, “মনমোহন সিংয়ের মৃত্যু দেশের জন্য একটি বড় ক্ষতি। তিনি খুব কম কথা বলতেন, কিন্তু তার প্রতিভা ও কাজ তার কথার চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলত।”

ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীসহ বেশ কয়েকজন ক্যাবিনেট মন্ত্রীকে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে দেখা যায়।

শ্মশানে মনমোহন সিংয়ের লাশ একটি চিতায় তোলা হয়। সেই সময় পাশ থেকে ধর্মীয় স্তোত্র বাজানো হয় এবং লাশের দাহ সম্পন্ন করা হয়।

উল্লেখ্য, মনমোহন সিং ২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত তিনি দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী পি ভি নরসিমা রাওয়ের (১৯৯১-৯৬) সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে মনমোহন সিং তখন দেশের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। তিনি বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ছিলেন এবং ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) গভর্নর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। অর্থমন্ত্রী হিসেবে তিনি ভারতের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংস্কারের উদ্যোগ নেন, যার কারণে তাকে ভারতের অর্থনীতিতে উদারনৈতিক সংস্কারের ‘স্থপতি’ বলা হয়।

সূত্র: ইউএনবি

 

Post a Comment

0 Comments