বাংলাদেশ সরকারের সচিবালয়ে রাত পৌনে ২টায় লাগা আগুন নেভাতে ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে এতগুলো ইউনিটের এত সময় কেন লাগল, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহেদ কামাল জানিয়েছেন, “জায়গাটি কনফাইনড (আবদ্ধ) ছিল।”
তিনি বলেন, “সব কক্ষ ভেতর থেকে আটকানো থাকায় গ্লাস বা দরজা ভেঙে পানি দিতে হয়েছে, এতে সময় লেগেছে। ভবনজুড়ে বিদ্যুতের তারের সংযোগের কারণে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় নেভাতে সমস্যা হয়েছে।”
এছাড়া রুমগুলোর অভ্যন্তরীণ নকশার কারণে আগুন নেভাতে আরও সমস্যা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে পানির সংকট ছিল না। “আমাদের চেষ্টা ছিল আগুন যেন ছয় তলার নিচে আসতে না পারে,” যোগ করেন তিনি।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ৭ নম্বর ভবন ছাড়া অন্য কোনো ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
বুধবার দিবাগত রাতে লাগা আগুন ছয় ঘণ্টার বেশি সময় পর বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানানো হয়েছে। বুধবার রাত ১টার পরে সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে আগুন লাগে।
ওই ভবনে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ অবস্থিত।
তথ্য অনুযায়ী, আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।
আগুন লাগার খবর পেয়ে রাত ১টা ৫২ মিনিটে ফায়ার সার্ভিস কাজ শুরু করে এবং মিনিট দু’কিছুর মধ্যে ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আগুনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় পর্যায়ক্রমে ২০টি ইউনিট সেখানে কাজ করতে আসে, তবে মহাপরিচালক জানান, স্থান স্বল্পতার কারণে মাত্র ১০টি ইউনিট কার্যক্রম চালাতে সক্ষম হয়।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টায় আগুন লাগা ভবনটির বিভিন্ন জানালা দিয়ে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। ওই সময় দুটি বড় ল্যাডার দিয়ে পানি ছিটানো হচ্ছিল। সকাল হওয়ার সাথে সাথে সচিবালয়ের কর্মীরা অফিসে আসতে থাকেন। বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে ৫ নম্বর ফটক খুলে দেওয়া হয় এবং কর্মকর্তারা ভিতরে প্রবেশ করতে থাকেন।
সচিবালয়ের চারপাশে প্রচুর মানুষের ভিড় দেখা গেছে, অনেকে আগুন লাগার খবর পেয়ে সেখানে আসেন। তবে নিরাপত্তার কারণে বাইরের কাউকে সচিবালয়ের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি এবং নিরাপত্তার জন্য সংলগ্ন সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছিল। ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন ছিল।
এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি জানান, “আগুন ষষ্ঠতলায় লাগে। আমাদের ফায়ার সার্ভিসে রাত ১টা ৫২ মিনিটে খবর দেওয়া হয়, তারা ১টা ৫৪ মিনিটে কাজ শুরু করে এবং সকাল ৮টা ৫ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। এই ঘটনায় আমাদের একজন ফায়ার ফাইটার শাহাদাত বরণ করেছেন। তিনি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।”
তিনি বলেন, “তিনি একটি পাইপ নিয়ে সচিবালয় থেকে বের হচ্ছিলেন। এ সময় একটি ট্রাক তাকে ধাক্কা দেয়, পরে তিনি মারা যান। তার সঙ্গে আরও দুই থেকে তিনজন আহত হয়েছেন, তবে তারা সবাই সুস্থ আছেন।”
তিনি আরও জানান, “এ বিষয়ে আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করছি। মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে ইতিমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য।”
আগুনের উৎস সম্পর্কে উপদেষ্টা বলেন, “এটা তদন্তের পর বলা সম্ভব হবে।”
এদিকে, সচিবালয়ে আগুন নেভানোর সময় ট্রাকচাপায় আহত ফায়ার সার্ভিস কর্মী মো. সোহানুর জামান নয়নের মৃত্যু হয়েছে। তিনি রংপুরের মিঠাপুকুর থানার আটপনিয়া গ্রামের আক্তারুজ্জামানের ছেলে এবং তেজগাঁও ফায়ার টিমের স্পেশাল ব্রাঞ্চের সদস্য ছিলেন।



0 Comments