অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগ সমর্থিত আমলাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।
আলোচনা সভায় গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বলেন, “আওয়ামী লীগ গত ১৫ বছর ধরে দেশে গুম-খুন করছে। সর্বশেষ জুলাইয়ে ছাত্র জনতার আন্দোলনে গণহত্যা চালিয়েছে। গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগের বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনও সরকার স্বাভাবিক করতে পারছে না। আমলারা সরকারের বিভিন্ন কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে এবং অন্তর্বর্তী সরকার তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।
সচিবালয়ে গত কয়েকদিন ধরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আমলারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তাদের পরিকল্পনায় সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, এবং সঠিকভাবে তদন্ত করলে এই ঘটনায় আমলাদের জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশ পাবে। এই আমলাদের রক্ষা করার জন্য সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের রক্ষা করা হচ্ছে। সবচেয়ে হাস্যকর হলো, যেই অগ্নিকাণ্ডে আমলারা জড়িত, সেই ঘটনার তদন্ত করবে তারাই। এই আওয়ামী দোসর আমলারা যেকোনো সময় প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই বিপ্লবে ছাত্র জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নিয়েছিল, কিন্তু এখন সেই ঐক্যবদ্ধ ছাত্র জনতার মাঝে বিভক্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানি করে একদল কিংস পার্টি খোলার চেষ্টা করছে, অথচ এখনও আন্দোলনে আহত অনেকেই সঠিক চিকিৎসা পায়নি, নিহতদের পরিবারও ক্ষতিপূরণ পায়নি।
৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা এবং ৭৪ সালের ভূমিকা যেমন আলাদা, তেমনি ৫ই আগস্টের আগে এবং পরে ছাত্র সমন্বয়কদের ভূমিকা কিন্তু ভিন্ন। বিএনপি গত ১৫ বছর ধরে নির্যাতিত ও নিপীড়িত হয়েছে, তাদের অনেক নেতাকর্মী গুম ও নিহত হয়েছে। স্বৈরাচার হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়, তবে ৫ই আগস্টের পর কিছু বিএনপি নেতাকর্মীর কার্যক্রম মেনে নেওয়া যায় না। তারা ক্ষমতায় আসার আগেই চাঁদাবাজি ও দখলদারি শুরু করেছে। আওয়ামী লীগের পতন থেকে বিএনপির শিক্ষা নেওয়া উচিত।”
দলের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান খান বলেছেন, “আমাদের মনে রাখতে হবে, ২৪ পরবর্তী গণঅভ্যুত্থানের অর্জন আমাদের সবার। আবাল-বৃদ্ধ-বণিতার অংশগ্রহণের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটেছে। ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী চেতনা কিছু একটি দল নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে, ঠিক একইভাবে এই অভ্যুত্থান পরবর্তী চেতনাকে পুঁজি করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল কাজ করছে। তাই আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই চেতনা বাণিজ্যকারীদের রুখে দিতে হবে।”
বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নাদিম হাসান বলেছেন, "নির্বাচনের কথা শুনলে শেখ হাসিনার মুখ যেমন মলিন হয়ে যেত, বর্তমানে উপদেষ্টাদের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করলে তাদের মুখও মলিন হয়ে যায়, যা ভালো লক্ষণ নয়। আমরা সংস্কার চাই, তবে দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকারও চাই। আওয়ামী লীগের পরিণতি থেকে নতুন দখলদাররা শিক্ষা নিলে ভালো হবে, নয়তো তাদেরও হাসিনা ও আওয়ামী লীগের মতো পরিণতি ভোগ করতে হবে। নতুন নতুন বিপ্লবের ডাক দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রশ্নের সম্মুখীন করছেন, অথচ বিগত ১৬ বছর এদের রাজপথে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কোনো দেখা মিলেনি। এই রাজনৈতিক দলগুলোই গুম, খুন, হামলা ও মামলা সহ্য করে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করে গেছে।"
কিশোরগঞ্জ জেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি সোহাগ মিয়ার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ রমজানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য এডভোকেট মোমিন, কিশোরগঞ্জ জেলার আহবায়ক নাসির উদ্দিন লিটন, সদস্য সচিব মোখলেছুর রহমান উজ্জ্বল, যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন তালুকদার, শ্রমিক অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল ইমরান, জেলা গণঅধিকার পরিষদের নেতা অভি চৌধুরী, শফিকুল ইসলাম, মোহসিন, যুব নেতা শরিফুল ইসলাম, কোখা সিদ্দিক, ছাত্র নেতা রিপন রাজ, ইমরান এবং নারী নেত্রী মোশফিকা বৃষ্টি।



0 Comments