Advertisement

অনৈতিকভাবে পূর্বাচলে ৬০ কাঠা জমি বরাদ্দ নেন শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা

 
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের তদন্ত

ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের সদস্যরা পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা করে ছয়টি প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা ও পরিবারের আরও চার সদস্যের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে।

অভিযুক্ত ছয়জন হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজিব ওয়াজেদ (জয়), মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল), ছোট বোন শেখ রেহানা, রেহানার ছেলে রেদোয়ান মুজিব সিদ্দিকী ববি এবং রেহানার মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকী।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো: আক্তার হোসেন বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার, নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক বিবেচনায় রাজউকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় তারা এই জমি বরাদ্দ নিয়েছেন। 

                                                                                                                     

দুদক জানায়, ১৩/এ ধারার ক্ষমতাবলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজিব ওয়াজেদ (জয়), মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল), ছোট বোন শেখ রেহানা, রেহানার ছেলে রেদোয়ান মুজিব সিদ্দিকী ববি এবং রেহানার মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকী পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের কূটনৈতিক জোনের ২০৩ নম্বর রোড থেকে ১০ কাঠা করে মোট ৬০ কাঠার ছয়টি প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। গণমাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর কমিশন এ বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর আগে, ২২ ডিসেম্বর, দুদক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা পরিবারের বিরুদ্ধে ৮০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়। দু’টি অভিযোগের অনুসন্ধান একই টিম পরিচালনা করছে এবং তারা ইতোমধ্যে বিভিন্ন নথিপত্র সংগ্রহ করছে।

এফবিআইয়ের তদন্তে সজিব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ

অভিযোগ অনুযায়ী, আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে একটি প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। ২০১৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বনাম রিজভী আহমেদ মামলার তদন্তকালে সজিব ওয়াজেদ জয়ের নাম প্রথমবারের মতো উঠে আসে। এফবিআইয়ের অনুসন্ধানে সজিব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক কেলেঙ্কারির বিষয়টি প্রকাশ পায়। বিশেষত, তার নামে থাকা হংকং ও কেম্যান আইল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে স্থানীয় একটি মানি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক এবং লন্ডনের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে টাকা পাচারের তথ্য পাওয়া যায়।

এফবিআই তাদের লন্ডন প্রতিনিধি অফিসের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং প্রমাণ পেয়েছে যে, সেখানে গুরুতর আর্থিক অনিয়ম এবং মানিলন্ডারিংয়ের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের (ডিওজে) সিনিয়র ট্রায়াল এটর্নি লিন্ডা সেমুয়েলস স্পেশাল এজেন্ট লা প্রিভোটের সাথে যোগাযোগ করে জানায় যে, বাংলাদেশ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রকল্পে ৮০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি অনুসন্ধান

গত ১৭ ডিসেম্বর, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রকল্পে ৮০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর মধ্যে ৫০০ কোটি ডলার বা ৫৯ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রূপপুর প্রকল্পের সাথে সম্পর্কিত, এবং শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয় ও ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিকসহ তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে রূপপুর ছাড়াও আশ্রয়ণসহ আটটি প্রকল্পের দুর্নীতির তথ্য আমলে নেয়া হয়েছে, যেখানে অন্যান্য প্রকল্পে ২১ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এরপর, ১৮ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো: সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়। টিমের অন্য সদস্যরা হলেন উপপরিচালক মো: সাইদুজ্জামান, সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া, সহকারী পরিচালক এসএম রাশেদুল হাসান এবং সহকারী পরিচালক একেএম মর্তুজা আলী সাগর।

961b51a.js'>

গত ১৫ ডিসেম্বর, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৫ বিলিয়ন বা ৫০০ কোটি ডলার (বাংলাদেশী মুদ্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা) লোপাটের অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করে।

এই অভিযোগের বিষয়ে, ৩ সেপ্টেম্বর, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) এর চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। ১৯ আগস্ট, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুর্নীতি নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয় ও ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয় যে, তারা মালয়েশিয়ার ব্যাংকের মাধ্যমে রূপপুর প্রকল্প থেকে ৫ বিলিয়ন বা ৫০০ কোটি ডলার লোপাট করেছেন। এই প্রতিবেদনটি গ্লোবাল ডিফেন্স করপোরেশনের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছিল, যারা বিভিন্ন দেশের সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতে দুর্নীতির অনুসন্ধান করে থাকে।

961b51a.js'>


Post a Comment

0 Comments