Advertisement

রেলের পাঁচ প্রকল্পে অনিশ্চয়তা, ভারতের বিকল্প অর্থায়ন খোঁজা হচ্ছে


 
আলমগীর স্বপন:

ভারতের সহায়তায় বাংলাদেশ রেলওয়ের ছয় প্রকল্প বাস্তবায়নে ঋণ চুক্তি হয়েছিল ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়। এর মধ্যে খুলনা থেকে মোংলা পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে, তবে বাকি পাঁচ প্রকল্পের মধ্যে দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে রংপুরের কাউনিয়া রেলপথ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। সার্বিক অগ্রগতি মাত্র ০.৯০ শতাংশ। খুলনা-দর্শনা রেলপথ নির্মাণের অগ্রগতি ৪.৭০ শতাংশ এবং বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথের কাজের অগ্রগতি ১৭.১০ শতাংশ।

ঢাকা-টঙ্গী ডাবল লাইনের কাজ হয়েছে ৩৭.১১ শতাংশ, আর কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথ প্রকল্পের কাজ হয়েছে ৫১ শতাংশ। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে এই দুই প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

এ পরিস্থিতিতে, ঋণদাতা ভারতীয় এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে অর্থায়ন নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু করেছে বাংলাদেশ। তবে প্রশ্ন উঠছে, এই অনিশ্চয়তা কাটবে কি না, নাকি বিকল্প পথ খুঁজবে বাংলাদেশ?

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন বলেন, "আমাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ভারত যদি অর্থায়ন না করে, তাহলে সরকারের তহবিল থেকে অর্থায়ন করে কাজ শেষ করতে হবে।"

ভারতের গড়িমসির কারণে বিকল্প অর্থায়নের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ। তবে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের শেষ অবস্থান জানতে আলোচনা চালানোর পর, যদি সুরাহা না হয়, রেল মন্ত্রণালয় নিজস্ব ও বিদেশি বিকল্প অর্থায়ন খুঁজবে। এতে দুইটি প্রকল্পের কাজ না হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম জানান, "ভারতের এক্সিম ব্যাংকের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে আলোচনা করেছে। কিছুদিন আগে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী দলও ঢাকার ভারতীয় দূতাবাসে আলোচনা করতে গেছে। তাই এখনই হতাশ হওয়ার কিছু নেই।"

অর্থায়নের এই অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রশ্ন উঠছে, ভারতীয় লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় রেলের বাকি তিন প্রকল্পের ভবিষ্যৎ কী? ইতোমধ্যে প্রকল্পগুলোর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ নকশা সম্পন্ন হয়েছে, তবে অর্থায়নের জন্য চিঠি পাঠানো হলেও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কোনো সাড়া মেলেনি।

ফাহিমুল ইসলাম বলেন, "বিকল্প অর্থায়নের বিষয়টি দেখা হবে এবং ভারতের সঙ্গে আলোচনা চলবে। তারা যদি অর্থায়ন করে, তবে সমস্যা নেই। তবে বিষয়টি আলোচনা সাপেক্ষ।"

আফজাল হোসেন বলেন, "বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ রেলপথের বিষয়ে ইআরডিকে চিঠি দিয়েছি, তাতে আমরা লিখেছি, এক মাসের মধ্যে এক্সিম ব্যাংক থেকে জানাতে চাই, তারা অর্থায়ন করবে কি না। যদি না করে, তাহলে বিকল্প খুঁজব। অন্যান্য প্রকল্পের জন্যও অর্থ খোঁজা হবে; যদি না পাওয়া যায়, সমস্যা নেই, কারণ কাজ শুরুই হয়নি।"

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে তিনটি যাত্রীবাহী ট্রেন—মৈত্রী, মিতালী ও বন্ধন—বন্ধ রয়েছে এবং পণ্যবাহী ট্রেনও চলাচল করছে না।

রেল সচিব বলেন, "পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২০ আগস্ট ভারতীয় দূতাবাসকে কূটনৈতিক নোট (নোট ভারবাল) দেয়া হয়েছে, কিন্তু এখনো কোনো জবাব পাইনি।"

যদিও প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে ওঠানামা রয়েছে, রেল মন্ত্রণালয় দ্রুত বন্ধ থাকা যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন চালুর ব্যাপারে আশাবাদী।

Post a Comment

0 Comments