শুক্রবার সকালে যশোর ঈদগাহে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, "ক্ষমতায় আসা আমাদের লক্ষ্য নয়, আমাদের লক্ষ্য হলো দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।" তিনি আরও বলেন, "যদি জামায়াত ইসলামী দেশবাসীর সেবা করার সুযোগ পায়, তাহলে এদেশে চাঁদাবাজি, দখলদারি ও ঘুষের কোন অস্তিত্ব থাকবে না। আমরা একটি ফ্যাসিবাদ-বিরোধী, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী জাতি গড়তে চাই।"
ডা. শফিকুর রহমান ৫ আগস্টের আগে দেশে চলা দুঃশাসনের কথা উল্লেখ করে বলেন, "আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দুঃশাসন ও জুলুম করেছে। বিগত সাড়ে ১৫ বছরে এই দুঃশাসন ও জুলুম সবচেয়ে বেশি ছিল।" তিনি আরও বলেন, "বাংলাদেশ ও বিশ্বের মানুষ কল্পনাও করতে পারেনি যে, ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শাসনের পতন হবে। আমাদের সন্তানদের নেতৃত্বে সেই পতন হয়েছে।"
যশোরের উন্নয়ন বঞ্চনা নিয়ে তিনি বলেন, "যশোর ব্রিটিশ আমলের পুরনো জেলা হলেও এখানকার উন্নয়ন আজও হয়নি। যশোরবাসী তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এই শহরের উন্নয়নে প্রয়োজন একটি প্রাণকেন্দ্র গঠন করা।"
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে সমালোচনা করে তিনি বলেন, "যারা চোর ও ডাকাত হিসেবে পরিচিত, তাদের ক্ষমতা কতটুকু? কলমের খোঁচায় যারা হাজার হাজার কোটি টাকা লুটেছে, তারা বড় চোর ও ডাকাত।" তিনি বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙার জন্য সরকারের আরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, "চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি, শুধু হাতবদল হয়েছে। শহিদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করবেন না।" তিনি মিথ্যা মামলায় নিরীহ মানুষকে হয়রানি বন্ধ করার দাবি জানান এবং বলেন, "প্রকৃত অপরাধীকে আসামি করুন, মামলার মাধ্যমে অর্থবাণিজ্য বন্ধ করতে হবে।"
তিনি দেশের সব মানুষের সমান অধিকার দাবি করে বলেন, "সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু বলে কিছু নেই, সবাই সাংবিধানিকভাবে সমান।" তিনি নারীর অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও জামায়াতের অবস্থান স্পষ্ট করেন, "আমরা নারীদের মায়ের জাতি হিসেবেই দেখতে চাই এবং তাদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করব।"
কর্মী সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য, জেলা নেতারা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।



0 Comments