বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে বলেছেন, "রাজনৈতিক দলের পেছনে লাগার কোনো প্রয়োজন নেই। বরং আপনাদের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা স্বৈরাচারের দোসরদের চিহ্নিত করুন এবং প্রশাসনসহ আশপাশ থেকে তাদের সরিয়ে দিন।"
বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের অডিটোরিয়ামে জাতীয়তাবাদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (জেটেব) আয়োজিত ‘বিএনপি ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা: প্রেক্ষিত টেক্সটাইল সেক্টর’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, "মানুষের আকাঙ্ক্ষা বোঝার চেষ্টা করুন এবং তাদের অধিকার দ্রুত ফিরিয়ে দিন। তাহলেই মানুষ আপনাদের সাধুবাদ জানাবে এবং ইতিহাস আপনাদের ইতিবাচকভাবে স্মরণ করবে।"
তিনি আরও বলেন, "যতই হম্বিতম্বি করা হোক, হিটলারও ফিরে আসেনি, তার বংশধররাও আসেনি। লক্ষণ সেনের গোষ্ঠীর কেউ ফিরে আসেনি। একইভাবে, পতিত স্বৈরাচারদেরও বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থায় ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই।"
বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য রাজনীতি করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আমরা কখনো বলি না যে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী বানানোর জন্য বিএনপি রাজনীতি করে। বিএনপি জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য রাজনীতি করে। যারা দাবি করছেন আন্দোলনের মূলমন্ত্র ভিন্ন কিছু ছিল, তাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, আন্দোলনের মূলমন্ত্র ছিল জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা। সেটিই বিএনপির একমাত্র দাবি।"
তিনি আরও বলেন, "বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী ছাত্র ভাইদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। শহীদ আবু সাইদ, মুগ্ধসহ প্রায় দুই হাজার ছাত্র-জনতা, শিশু ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের কথা আমরা ভুলিনি। বিএনপির ৪২২ জন নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন। আজ ঐক্যের প্রয়োজন। ঐক্যবদ্ধ হলেই দেশ এগিয়ে যাবে।"
ভারতের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, "পার্শ্ববর্তী দেশের কিছু ভাই সোশ্যাল মিডিয়া এবং কিছু টেলিভিশনের মাধ্যমে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। তারা লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা পাচার করেছে, দেশের অর্থনীতি পঙ্গু করেছে এবং আমাদের বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তারা অস্ত্র লুটপাট করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে তাদের দলীয় কর্মীদের নিয়োগ দিয়ে বাহিনীকে দলীয়করণ করেছিল।"
তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ও সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে বলেন, "সরকারের সিদ্ধান্ত হতে হবে আরো বলিষ্ঠ ও দ্রুত। না হলে প্রশাসনের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা স্বৈরাচারের দোসররা ফণা তোলার চেষ্টা করবে। তাদের বিষ দাঁত ভেঙে দিতে আইডেন্টিফাই করুন।"
তিনি আরো বলেন, "শহীদদের রক্তের শপথ নিয়ে ঐক্য ধরে রাখতে হবে। ৩৬ জুলাই (৫ আগস্ট) জাতি ঐক্যবদ্ধ ছিল বলেই স্বৈরাচার পালিয়েছে। ঐক্য ভাঙলে আমরা সবাই ব্যর্থ হব। কাজেই কমন শত্রুকে চিহ্নিত করুন এবং জনগণের অধিকার আদায়ের সুযোগ দিন। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে দেশ কোন পথে যাবে এবং আগামী দিনের বাংলাদেশ কেমন হবে।"
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, "আমরা অনেক ন্যারেটিভ ও মন্তব্য শুনি। সব কথা শোনা, চিন্তা করা এবং তারপর মন্তব্য করা উচিত। না হলে ভুল হবে। যখন শুনি ৫৩ বছরে কোনো সংস্কার হয়নি, তখন কষ্ট লাগে। কারণ যারা এসব বলেন, তারা হয়তো বয়স বা অভিজ্ঞতার কারণে বাংলাদেশের সংস্কারের ধারাবাহিক প্রক্রিয়া বুঝতে পারেননি বা স্বীকার করতে চান না।"
জাতীয়তাবাদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (জেটেব) আয়োজিত এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেটেব সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. ফখরুল আলম এবং পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক এবি এম রুহুল আমীন আকন্দ। অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, আব্দুস সালাম আজাদসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।



0 Comments