হিজড়া পরিচয় জানাজানি হওয়ার পর শোভা সরকারের বাবুর্চির চাকরি চলে যায়। তবে এখন রাজধানীর নতুনবাজারে তার ফুড কর্নারে ৬ জন কর্মচারী কাজ করছেন। তাদের বেতন-খরচ মিটিয়ে ভালো আয় হচ্ছে শোভার।
উদ্যোক্তা শোভা সরকার বলেন, "আগে প্রতিদিন ১৫ হাজার টাকার মতো বিক্রি হতো, এখন ৮-১০ হাজার টাকা বিক্রি হয়। এখানে বিক্রি ভালোই হয়। আমাদের ফুড কর্নারের বাবুর্চির বেতন ৩০ হাজার টাকা, পরবর্তী কর্মচারীর ২০ হাজার টাকা, এবং অন্যান্যদের ১৫ হাজারের কম নয়। সব মিলিয়ে মাস শেষে ভালো আয় হয়, যা দিয়ে আমাদের জীবনযাত্রা ভালোভাবে চলে।"
এখন আর শোভা সরকারকে মুখ লুকিয়ে কাঁদতে হয় না, আগের মতো কটুকথাও শুনতে হয় না। এমনকি তার পরিবারের কাছ থেকেও বেড়েছে তার গুরুত্ব।
শোভা সরকার বলেন, "আমি খুব গর্বিত যে এখন পরিবার আমাকে মূল্যায়ন করে। আগে তা পেতাম না, কিন্তু এখন তারা আমার সফলতা দেখে গর্বিত। কারণ তারা জানে, আমি ভিক্ষাবৃত্তি করি না, কাজ করে পরিশ্রমের মাধ্যমে সফলতা অর্জন করেছি।"
ফুডকোর্ট প্রতিষ্ঠা করতে বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি শোভার পাশে দাঁড়িয়ে অর্থ সহায়তা প্রদান করেছে। শোভার স্বপ্ন রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আরও দোকান খোলা এবং সেখানে তৃতীয় লিঙ্গের আরও মানুষকে কাজ দেওয়ার।
তিনি আরও বলেন, "শুধু বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি নয়, আরও সংগঠন এগিয়ে আসুক আমাদের পাশে, যেন আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করে দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে পারি। এটাই আমার প্রত্যাশা।"



0 Comments