Advertisement

"ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন সাঈদ খোকন"

 

ইসলামী ইন্স্যুরেন্সে সাঈদ খোকনের 'পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ': হাজার কোটি টাকার আত্মসাতের অভিযোগ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন ইসলামী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে পারিবারিক ব্যবসায় পরিণত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি দলীয় ক্ষমতার দাপটে নিজের স্ত্রী, দুই মেয়ে, বোন, বোনের জামাইসহ পরিবারের আট সদস্যকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি লুটপাটের ক্ষেত্র বানিয়েছেন।

সাঈদ খোকন ২০১২ সালে জোরপূর্বক ইসলামি ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান পদে বসেন, এর পর থেকেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোম্পানির শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। অভিযোগ রয়েছে, সাঈদ খোকন নিজে চাচা ইসমাইল নওয়াবকে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর কোম্পানির কার্যক্রম এককভাবে পরিচালনা করেন। একদিকে, অন্য সব পরিচালককে বাদ দিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজের হাতে নেন।

এছাড়া, প্রতিষ্ঠানটি শরিয়াহভিত্তিক হলেও শরিয়া কাউন্সিলের সভা না করেই নিজ ইচ্ছায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেছেন সাঈদ খোকন। সেসময়, তিনি পারিবারিক সদস্যদের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য বানিয়ে তাদের সুবিধা নিশ্চিত করেন। তার মেয়ে, বোন এবং নিকটাত্মীয়রা ২০১০ সাল থেকেই কোম্পানির পাবলিক শেয়ারহোল্ডার পরিচালক হিসেবে রয়েছেন। সাঈদ খোকন তার ভগ্নিপতি এবং চাচাকে স্বতন্ত্র পরিচালক বানিয়ে তাদেরও অডিট কমিটি ও এনআরসি কমিটির চেয়ারম্যানের পদে বসিয়েছেন।

ডিএসসিসির মেয়র থাকার সময়ে সাঈদ খোকন কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবে নিজে নিয়মবহির্ভূতভাবে সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করেছেন, এমনকি সভায় অনুপস্থিত থেকেও সভার ফি গ্রহণ করেছেন। তার স্ত্রী, মেয়ে, শ্যালিকা, বোনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও সভায় অনুপস্থিত থেকেও এই সুবিধা ভোগ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তাছাড়া, সাঈদ খোকন নিজের সিদ্ধান্তে কোম্পানির প্রধান কার্যালয় স্থানান্তর করেন, যেখানে পুরানা পল্টন থেকে বর্ধিত ভাড়ায় বনানীতে নিজের মালিকানাধীন ভবনে অফিস স্থানান্তরিত হয়।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পরিচালকরা দাবি করেছেন, সাঈদ খোকনকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যাবে। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালানোর পর থেকে সাঈদ খোকন পরিবারের সঙ্গে আত্মগোপনে চলে যান এবং এরপর থেকে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

এখনও পর্যন্ত এসব অভিযোগের ব্যাপারে সাঈদ খোকনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Post a Comment

0 Comments