জীবনের অন্ধকার দিনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় বিপদ দাঁড়িয়ে রয়েছে তার সামনে—অর্থাভাবে চিরতরে হারানোর পথে তার ডান চোখ। জীবন রহমান, একজন আত্মবিশ্বাসী তরুণ ছাত্র, যিনি ঢাকার ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার গুলিবিদ্ধ চোখের ছররা গুলি অপসারণ করতে চান। তবে, তার পরিবারের আর্থিক সঙ্কট এতটা ভয়াবহ যে, অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ যোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। এখন পুরো পরিবার এক গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
চক্ষু বিশেষজ্ঞরা বারবার পরামর্শ দিয়েছেন, দ্রুত অস্ত্রোপচার করা না হলে তার চোখটি চিরতরে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কিন্তু, অর্থের অভাবে, তার পরিবার সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।
গত ১৯ জুলাই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন জীবন। তার ডান চোখের রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায় এবং চোখের মধ্যে একটি ছররা গুলি আটকে যায়। চিকিৎসকরা বলছেন, গুলিটি অপসারণ করা না গেলে তার চোখের দৃষ্টিশক্তি পুরোপুরি চলে যেতে পারে।
জীবন জানাচ্ছেন, তার স্বপ্ন ছিল পুলিশ কর্মকর্তা হয়ে পরিবারকে একটি সুন্দর জীবন উপহার দেওয়ার। কিন্তু আর্থিক সংকট ও দুর্ঘটনার ফলে তার জীবন এখন বিপদে। তার বাবা রবিউল ইসলাম ছোট একটি পানের দোকান চালান এবং মা জামিলা বেগম একজন গৃহিণী। জীবন তাদের একমাত্র ছেলে, আর তার ছোট বোন রাবেয়া seventh grade এ পড়াশোনা করছে।
পরিবারের আর্থিক অবস্থা এতই সংকটপূর্ণ যে, জীবন তার চোখের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারছে না। ২০১৮ সালে মাধ্যমিক স্কুলে ভালো ফলাফল করে পড়াশোনা শুরু করলেও আজ জীবন এক গভীর দুঃসময়ের মধ্যে আছেন।
জীবনের মা জামিলা বেগম জানান, তিনি আত্মীয়দের কাছ থেকে টাকা ধার করে ছেলে জীবনকে বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা করিয়েছেন। তবে, এখন আর্থিক অক্ষমতার কারণে তাকে আরও উন্নত চিকিৎসা নিতে ঢাকায় পাঠানোর কোনো উপায় নেই।
চিকিৎসকদের মতে, তার চোখের অবস্থার দ্রুত উন্নতি না ঘটলে চিরতরে অন্ধ হয়ে যেতে পারেন তিনি। বর্তমানে জীবন ও তার পরিবার সমাজের কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছে যাতে তার চোখের চিকিৎসা এবং অস্ত্রোপচার সম্ভব হয়।
এটি শুধু জীবনের একক সমস্যা নয়, বরং সমাজের অনেক অসহায় মানুষের সমস্যা। সরকার ও সমাজের সকল স্তরের কাছ থেকে সাহায্য এবং সমর্থন প্রার্থনা করছেন জীবন এবং তার পরিবার।



0 Comments