যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠদের বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির খোঁজ মিলেছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক অনুসন্ধানে জানা যায়, এসব সম্পত্তি মূলত যুক্তরাজ্যের আবাসন খাতে লগ্নি করা হয়েছে এবং এর আর্থিক মূল্য ৪০ কোটি পাউন্ড (প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা) বা তারও বেশি হতে পারে। তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, এসব সম্পত্তি ব্যাংক ঋণ পরিশোধ না করে এবং হুন্ডির মাধ্যমে পাচার করা অর্থে কেনা হয়েছে।
এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সরকারের পক্ষ থেকে সম্প্রতি দাবি করা হয়েছে যে, শেখ হাসিনার সরকারের আমলে প্রায় ১৭ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, যার একটি বড় অংশের গন্তব্য ছিল যুক্তরাজ্য।
অপরদিকে, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক যেই ১৭ বিলিয়ন ডলার পাচারের কথা বলেছে, বাস্তবে তা আরও বেশি। তিনি জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রতি বছর প্রায় ১২ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, তবে এ ব্যাপারে সঠিক তথ্য কোথাও নেই।
এই তথ্যগুলো উঠে এসেছে ব্রিটিশ দৈনিক অবজারভার এবং দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের যৌথ অনুসন্ধানে। অনুসন্ধান অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠদের নামে ৩৫০টিরও বেশি সম্পত্তির সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব সম্পত্তির বেশিরভাগই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন।
সালমান এফ রহমানের পরিবারের সদস্যরা লন্ডনের গ্রোসভেনর স্কয়ারে বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টের মালিক, যার মধ্যে ২০২২ সালে এক কোটি ৬৭ লাখ পাউন্ডে কেনা একটি অ্যাপার্টমেন্টও রয়েছে। এছাড়া সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রায় ৩০০টি সম্পত্তির সন্ধান পাওয়া গেছে, যার মোট মূল্য ১৬ কোটি পাউন্ড। সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিদেশি সম্পত্তি প্রায় ৫০ কোটি ডলারের হিসেবে ধরা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের পরিবারও যুক্তরাজ্যে দুটি সম্পত্তির মালিক, যার মূল্য ১ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড। এই সম্পত্তি তারা অফশোর কোম্পানির মাধ্যমে কিনেছেন।
এছাড়া, নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারও যুক্তরাজ্যে পাঁচটি সম্পত্তি কিনেছেন, যার মূল্য ৩.৮০ মিলিয়ন পাউন্ড। তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের তদন্তও চলছে।
এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, তাদের সম্পত্তি আইন অনুযায়ী কেনা হয়েছে।
সূত্র: বাসস



0 Comments