আজ সোমবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শিবগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা বিএনপি এই জনসভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল হামিদ এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন তুহিন।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীনসহ দলের অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের নেতারা।
এখন কেউ যেন দেশকে বিভক্ত করতে না পারে, সে বিষয়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, "আমরা একটি সুযোগ পেয়েছি। তাই আমি সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ সকল বাহিনীকে অনুরোধ করতে চাই—আসুন, এই সুযোগ কাজে লাগাই। আমরা সকল বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই।"
স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, "বিগত ১৫ বছর ধরে দেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। স্বৈরাচারী সরকার জনগণকে বোকা বানিয়ে তিনটি নির্বাচন করে জোর করে ক্ষমতায় ছিল। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ভেবেছিলেন, তিনি কখনো ক্ষমতা হারাবেন না। কিন্তু দেখুন, কিভাবে ছাত্র-জনতার প্রবল গণআন্দোলনের মুখে তাকে এবং তার পরিবারকে পালিয়ে যেতে হয়েছে। সেই নেত্রী বলেছিলেন, 'আমি পালাই না, আমি ভয় পাই না, আমি মুজিবের মেয়ে।'"
বিএনপির মহাসচিব বলেন, "দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে গিয়ে শেখ হাসিনা সেখানে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করছেন। তিনি মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছেন যে, এখানে আমাদের হিন্দু ভাইদের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে। আমি বলতে চাই, আমরা খুব শান্তিপ্রিয় মানুষ। আমরা সবসময় হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, মুসলমান একসাথে বসবাস করি।"
মির্জা ফখরুল বলেন, "পতিত আওয়ামী লীগ সরকার দেশ থেকে ২৮ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে এবং প্রতি বছর ১২ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে। তারা বিচার ব্যবস্থা এবং অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে। পুলিশকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করেছে।"
তিনি জানান, "সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ছয় বছর ধরে জেলে আটক রাখা হয়েছিল এবং তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটানোর জন্য বিষ প্রয়োগ করে তাকে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল।"
ছাত্র-জনতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, "আমি ছাত্র-জনতাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, যারা ১৫ বছর লড়াই করেছেন। তাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই, কারণ তারা নিজেদের বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে আমাদের জন্য একটি সুযোগ সৃষ্টি করেছেন, যাতে আমরা দেশে গণতান্ত্রিক পথ পুনরুদ্ধার করতে পারি। আমরা এখানে সকল মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।"
দলের সংস্কার প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, "আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০১৬ সালে 'ভিশন বাংলাদেশ টুয়েন্টি-থার্টি' দিয়েছেন। আমাদের নেতা তারেক রহমান ২০২২ সালে ৩১ দফা প্রস্তাব করেছেন। এই ৩১ দফা আসলে সংস্কার প্রস্তাব। আমরা এই সংস্কার চাই—যাতে আমরা ভোট দিতে পারি, দেশে শান্তি থাকে, জিনিসপত্রের দাম কম হয়, মারামারি ও চুরি-ডাকাতি না হয়, এবং কথায় কথায় ঘুষ দিতে না হয়। এ রকম একটি বাংলাদেশ আমরা চাই।"
সূত্র: বাসস



0 Comments