Advertisement

পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করবে সরকার।

 

   ছবি: বাসস।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে আগামী ১০ ডিসেম্বর থেকে এফবিআইসহ (ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে বৈঠক শুরু করবে সরকার, জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

রোববার (১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, "বিগত সরকারের আমলে চোখের সামনে লুটপাট চললেও অনেকেই এসবের বৈধতা দিয়েছেন।"

শফিকুল আলম বলেন, "ফিলিস্তিনসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে আলোচনা হবে এবং আমরা পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেব। আমাদের লক্ষ্য থাকবে, কীভাবে এই অর্থ দেশে ফেরত আনা যায়। তবে, চুরি হওয়া টাকা কোথায় গেছে, তা আগে খুঁজে বের করতে হবে।"

তিনি আরও বলেন, "এফবিআইসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানদের সঙ্গে বৈঠক চলছে এবং তাদের সঙ্গে পরামর্শ নিচ্ছি যাতে অর্থ ফেরত আনা যায়। টাকা ফেরত আনা খুবই কঠিন কাজ, তবে এটি আমাদের অগ্রাধিকার।"

প্রেস সচিব উল্লেখ করেন, "বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। লুটপাটের চিত্র ময়নাতদন্তের মতো বের হয়ে এসেছে, আর এই দুর্নীতি বৈধতা দেওয়ার জন্য অনেক সাংবাদিকও ভূমিকা রেখেছেন।"

এদিকে, শ্বেতপত্রে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের দুর্নীতির বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস শঙ্কিত হয়েছেন। শফিকুল আলম বলেন, "ড. ইউনূস বলেছেন, এটি রক্ত হিম করার মতো অবস্থা। বাংলাদেশের জনগণের ট্যাক্সের টাকা লুটপাট করা হয়েছে, যা গরিব মানুষের পকেট থেকে নেওয়া হয়েছে।"

প্রেস সচিব আরও বলেন, "এটা কেবল রাজনৈতিক ব্যক্তি, আমলা এবং কিছু ব্যবসায়ীর যোগসাজশে সম্ভব হয়েছে। এবং এদের অনেকেই এসব কার্যক্রমকে বৈধতা দিয়েছে।"

গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, "এটা আমাদের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হবে, টাকা ফিরিয়ে আনতে আমরা সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নেব।"

শফিকুল আলম সরকারিভাবে দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করারও ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন, কমিশনের সদস্যদের দ্রুত মনোনয়ন দেয়া হবে, যারা পাচারের সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করবেন।

এছাড়া, মেগা প্রকল্পের দুর্নীতির উদাহরণ হিসেবে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত টানেলের কথা উল্লেখ করেন প্রেস সচিব। তিনি বলেন, "এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নির্বাচনী এলাকা উন্নয়ন করা, কিন্তু এখন তার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ হয়ে গেছে এবং মেনটেন্যান্স খরচও বাড়ছে।"

সচিব আরও জানান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করছে, এবং জানিয়ে দেন যে, এই টাকার ছাপানোর কারণে বাজারে অতিরিক্ত টাকা আসবে না, বরং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে।

সূত্র: বাসস

Post a Comment

0 Comments