ভারতের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পেয়েছে গুম তদন্ত কমিশন
বাংলাদেশে গুমের ঘটনায় প্রতিবেশী ভারতের সম্পৃক্ততা খুঁজে পেয়েছে গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন। সাবেক বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের এই কমিশন সম্প্রতি "সত্য উদঘাটন" শিরোনামে একটি প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে হস্তান্তর করেছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস এই প্রতিবেদনটি শনিবার প্রকাশ করে। বাসসের তথ্যের ভিত্তিতে রোববার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার অনলাইনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, "বন্দিদের ভারতে পাঠাতেন হাসিনা"! মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের তদন্ত কমিশন জানিয়েছে, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন অনেক অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার না-করে গুম করা হত। এই প্রতিবেদনে গুমের ঘটনাগুলোতে ভারতের সম্পৃক্ততার অভিযোগও আনা হয়েছে। বাংলাদেশের সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসস বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে তদন্ত কমিশনের পর্যবেক্ষণ
আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রথম থেকেই ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বিতর্কিত। তাদের তদন্ত কমিশন দাবি করেছে, দুই দেশের মধ্যে বন্দি বিনিময়ের ঘটনা ঘটতে পারে এবং সেই বন্দিদের ভাগ্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে।
কমিশন দুটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার কথা তুলে ধরেছে। প্রথমত, সুখরঞ্জন বালির ঘটনা, যাকে সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে অপহরণ করা হয় এবং পরে ভারতের একটি জেলে পাওয়া যায়। দ্বিতীয়ত, বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদের ঘটনা, যাকে ২০১৫ সালে ঢাকা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে তিনি তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।
কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সূত্র থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, কিছু বাংলাদেশি বন্দি এখনও ভারতের জেলে থাকতে পারে। কমিশন এ বিষয়ে পররাষ্ট্র এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। তবে, সীমান্তের বাইরে তদন্ত করা কমিশনের এখতিয়ার বহির্ভূত।
র্যাব গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত এক সেনা সদস্যের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তামাবিল সীমান্ত দিয়ে ২০১১ সালে ভারত থেকে তিনজন বন্দি গ্রহণ করা হয়েছিল। এ সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) উপস্থিতি ছিল। এক ঘটনায়, দুই বন্দিকে গ্রহণ করার পর রাস্তার পাশে হত্যা করা হয়, আরেক ঘটনায়, একজন বন্দিকে জীবিত অবস্থায় গ্রহণ করে অন্য একটি দলের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, এই বিনিময়ের অংশ হিসেবে র্যাব গোয়েন্দা শাখা বাংলাদেশের দুই বন্দিকে ভারতের কাছে হস্তান্তর করে। যদিও সেনা সদস্য বন্দিদের নাম জানাতে পারেননি, তবে এসব ঘটনা আন্তঃসীমান্ত নিরাপত্তা সমন্বয়ের মাধ্যমে গুমের ঘটনার প্রাতিষ্ঠানিক ও আন্তঃসীমান্ত প্রকৃতি তুলে ধরে।
কমিশন মনে করে, এ ধরনের কার্যক্রমে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কতটা জড়িত ছিল এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে দুই দেশের সম্পর্কের ওপর এর কী প্রভাব পড়বে তা বুঝতে আরও বিশ্লেষণ প্রয়োজন।



0 Comments