কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে শান্তির সমাজ প্রতিষ্ঠার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আল্লাহ মৃত্য ও জীবন সৃষ্টি করেছেন, যাতে দেখা যায় কে সবচেয়ে বেশি নেক আমল করে। দুনিয়ায় শান্তি ও আখেরাতে মুক্তি লাভের জন্য সকলকে নেক আমল ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি ক্ষুধা, দারিদ্র্য এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সবাইকে একত্রিত হয়ে কাজ করতে উৎসাহিত করেন।
শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) রাজধানীর শেওরাপাড়া এলাকার মনিপুর স্কুলে স্থানীয়দের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম হল সে, যে মানুষের কল্যাণে কাজ করে। হাদিসে এসেছে, 'তোমাদের মধ্যে সেরা হল তারা, যারা সবসময় মানুষের উপকারে সচেষ্ট থাকে।' নির্বাচনের সময় কিছু রাজনৈতিক নেতারা জনগণের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ক্ষমতায় গেলে তারা সেই অঙ্গীকার ভুলে যান এবং নিজেদের স্বার্থে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এজন্য নেতাদের নির্বাচনের ক্ষেত্রে সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও তাকওয়া বিবেচনা করা উচিত। তিনি ন্যায় ও ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য যোগ্য ও নিবেদিত ব্যক্তিদের নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।"
তিনি আরো বলেন, "অসৎ নেতারা জনগণের কাছে নতুন নতুন প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু সেগুলো রক্ষা করেন না। ঔপনিবেশিক শাসকরাও একই পথ অনুসরণ করেছে। উপমহাদেশের আলেম সমাজ তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, কিন্তু বিশ্বাসঘাতকদের কারণে সেসব আন্দোলন প্রথমে সফল হয়নি। গত ৫৩ বছরে শাসকগোষ্ঠী দেশে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে এবং মানুষকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত আমাদের বীর সন্তানরা গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। এক মা তার ১০ মাসের সন্তানকে নিয়ে রাজপথে নেমে এসেছিল এবং দাবি করেছিলেন, রাজপথে যারা আছেন, তারা সবাই তার সন্তান। এই অটল ঐক্যের মাধ্যমেই আমাদের বিজয় এসেছে। তিনি অর্জিত বিজয়ের সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছাতে সবাইকে একত্রিত থাকার আহ্বান জানান।"
তিনি আরও বলেন, "জামায়াতে ইসলামী একটি বৈষম্যহীন ও ইনসাফপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে, যেখানে কেউ না খেয়ে থাকবে না এবং কেউ অবৈধভাবে সম্পদ গড়ে বিদেশে পাচার করে অর্থবিত্তের পাহাড় জমাতে পারবে না। কোরআন-সুন্নাহর আইনের মাধ্যমে এমন একটি শান্তির সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব, যেখানে সৎ কাজের নির্দেশনা থাকবে এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা হবে। এ ধরনের সমাজই আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য। তিনি সেই স্বপ্নের সমাজ গঠনে সবাইকে জামায়াতের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।"
কাফরুল পশ্চিম থানা আমির আব্দুল মতিন খানের সভাপতিত্বে এবং থানা সেক্রেটারি মাওলানা আতিক হাসান রায়হানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।
উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ এবং শাহ আলম তুহিনসহ অন্যান্যরা।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি



0 Comments