Advertisement

জেলা-উপজেলায় কর্মসূচির মাধ্যমে আ’লীগ নিষিদ্ধের দাবি জানাবে : নুর

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তিনি বলেছেন, "আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্র চলছে। নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভাজন শুরু হয়েছে। জাতীয় সরকার ছাড়া এই সরকার ছয় মাসও টিকবে না।"

শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর হাতিরঝিলে ঢাকা মহানগর উত্তর গণঅধিকার পরিষদের গুলশান জোনের উদ্যোগে জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এবং আহতদের সুস্থতা কামনায় আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আলোচনা সভার শুরুতে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হাসান আরিফের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে নুরুল হক নুর বলেন, "একদিন তার মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সেখানে জুলাই বিপ্লবে আহত কয়েকজনের সাথে দেখা হয়। আমাদের অফিসে অনেকেই আসেন, কিন্তু চিকিৎসা ও সহযোগিতা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে না। যাদের রক্ত, হাত-পা, চোখ হারানোসহ ত্যাগের কারণে আজকের এ পরিবর্তন, সেই বিপ্লবীদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে না, সহযোগিতা করা হচ্ছে না। এটা আমাদের দুর্ভাগ্য ও দুঃখজনক।"

তিনি বলেন, "বারবার আহত ও নিহতদের সহযোগিতা ও ক্ষতিপূরণের কথা বললেও সরকারের কানে পানি যাচ্ছে না। সরকারকে স্থিতিশীল করার জন্য আমরা প্রথমে বিভিন্ন গ্রুপকে আন্দোলন না করতে নিষেধ করেছি, অনেককেই থামিয়েছি। কিন্তু সরকার এখন আমাদের কথা শুনছে না। তাই আমরা পরিষ্কার বলতে চাই, ডিসেম্বরের মধ্যে আহতদের অর্ধকোটি এবং নিহতদের এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ না দিলে জানুয়ারিতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ঘেরাও করা হবে। উপদেষ্টাদের মন্ত্রণালয়ে ঢুকতে দেওয়া হবে না।"

তিনি আরো বলেন, "আমরা বারবার বলেছি, বিপ্লবের পরে প্রতি বিপ্লবের ঝুঁকি থাকে এবং অনেকেই বিপ্লব নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র করে। জাতীয় সরকার গঠন করে এ সংকট মোকাবেলা করুন।"

তিনি অভিযোগ করেন, "তারা পরিচিত সার্কেল, বন্ধু-বান্ধব ও সহকর্মীদের নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেছেন, যা গণঅভ্যুত্থানের অংশীজনদের হতাশ করেছে। চার মাসে দেশে স্থিতিশীলতা আসেনি।"

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান বলেছেন, "জাতীয় ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠা করতে হলে উপদেষ্টা পরিষদে সকল বিপ্লবীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মৃতপ্রায় আন্দোলনকে জীবিত করেছে। যদি যাত্রাবাড়ীতে আন্দোলন না হতো, তবে হাসিনার পতন ঘটত না। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রথমবারের মতো ছাত্রলীগকে হল থেকে বের করে দিয়েছে। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়কে মূল্যায়ন করা হয়নি। এটা কখনোই বিপ্লবের চেতনা হতে পারে না।"

তিনি আরো বলেন, "উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের শুরুতেই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজব্যবস্থা হোঁচট খেয়েছে। আন্দোলন কি শুধু দুটি সংগঠন করেছে? বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ, জামায়াতসহ রাজনৈতিক দলগুলো এবং সাধারণ শিক্ষার্থী ও জনতা কি কিছু করেনি? কিন্তু আজকের পরিস্থিতিতে একটি গোষ্ঠী নিজেদেরকে গণঅভ্যুত্থানের ধারক ও বাহক দাবি করে, আওয়ামী লীগের কাউন্সিলরদের সহযোগিতা নিয়ে কিংস পার্টি গঠনের চেষ্টা করছে। সরকারের সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে একটি পার্টি গঠন জনগণ গ্রহণ করবে না। এখন পার্টি গঠনের চেয়ে রাষ্ট্র সংস্কার অধিক জরুরি।"

তিনি বলেন, "ওবায়দুল পালিয়ে গেছে, কিন্তু আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড এবং শেখ পরিবারের একজনও আটক হয়নি। শহীদ পরিবারের এখনও ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়নি, এবং শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের সঠিক তালিকা তৈরি হয়নি। তাহলে, একাত্তরের মতো ২৪-এর সঠিক ইতিহাস জাতি কিভাবে জানবে? দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোটেই ভালো নয়। চাঁদাবাজি ও মারামারি চলছে, কিন্তু স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাক হয়ে রয়েছেন। গত ১৫ বছরে অথবা বিপ্লবে তার অবদান কী ছিল? এমন একজন ব্যক্তি কীভাবে বিপ্লবী সরকারের উপদেষ্টা হতে পারে? যারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে কাজ করবে না, তাদের কোনো বেতন দেওয়া উচিত নয়। যারা কাজ করবে, শুধুমাত্র তাদেরকেই বেতন দিতে হবে। তাহলেই সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে। ৭১-এর পর যেভাবে ক্ষমতা বেদখল হয়েছে এবং স্বাধীনতা বেহাত হয়েছে, ঠিক ২৪-এর পর একপেশে সরকার গঠনের ফলে বিপ্লবও বেহাত হওয়ার পথে।"

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মিজানুর রহমান ভূইয়া, যিনি গণঅধিকার পরিষদ ঢাকা মহানগর উত্তর এর সভাপতি। বক্তব্য দেন মাহফুজুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গণঅধিকার পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি; মামুন, সভাপতি যুব অধিকার পরিষদ ঢাকা মহানগর উত্তর; গুলশান থানার আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম; গুলশান থানার সদস্য সচিব আমিনুর ইসলাম; এবং বাড্ডা থানার সভাপতি রাসেল ফকির।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

 

Post a Comment

0 Comments