ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) খোন্দকার নজমুল হাসান।
সূত্র: সংগৃহীত
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) খোন্দকার নজমুল হাসান বলেছেন, "দায়িত্ব পালনকালে ট্রাফিক পুলিশকে অনেক সময় চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। তবুও, রাষ্ট্রের কর্মচারী হিসেবে আমাদের প্রধান দায়িত্ব হলো নাগরিকদের যথাসময়ে তাদের গন্তব্যে পৌঁছানো নিশ্চিত করা।"
শনিবার বিকেলে রাজধানীর কদমতলীতে স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে কদমতলী থানা এলাকার নাগরিকদের সমন্বয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার খোন্দকার নজমুল হাসান বলেন, "যানজট ঢাকা শহরের একটি বড় সমস্যা। বাংলাদেশে প্রতি বছর যানজটের কারণে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা অপচয় হয়। আমরা বড় বড় অট্টালিকা তৈরি করি, কিন্তু বাড়ির সামনে বা পাশে রাস্তার জন্য জায়গা রাখতে চাই না। এই আত্মকেন্দ্রিক মানসিকতার কারণেই আমরা নিজেরাই সুবিধাবঞ্চিত হচ্ছি।"
তিনি আরও বলেন, "যাত্রাবাড়ীতে ট্রাফিক পুলিশকে পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। এমনকি, গতকাল উল্টোপথে যাতায়াতের জন্য আটক করার ঘটনায় এক ট্রাফিক পুলিশকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। তবুও আমাদের দায়িত্ব নাগরিকদের যথাসময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিশ্চিত করা। যানজট কমানোর বিষয়ে সমাজের সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।"
তিনি বলেন, "ট্রাফিক পুলিশের কোনো সদস্য যদি অনৈতিক কাজে জড়িত থাকে, আপনারা তথ্য দিলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখানের বেশিরভাগ পুলিশ সদস্য নতুন, তাই তাদেরকে কাজের জন্য কিছুটা সময় দিতে হবে এবং সহযোগিতা করতে হবে। মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তবে অভিভাবকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে—আপনার সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কী করছে, সে বিষয়ে খোঁজখবর রাখতে হবে এবং প্রয়োজন হলে তাদের কাউন্সেলিং করতে হবে।"
পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াতের মাধ্যমে মতবিনিময় সভা শুরু হয়। এরপর গত জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শাহাদাত বরণকারী শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে সকল শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছাত্র-জনতা এবং কদমতলী থানা এলাকার নাগরিকরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে ছিল জুরাইন রেলগেট হকার মুক্ত করা, কিশোর গ্যাং সমস্যার সমাধান, মাদককারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, সৎ ব্যক্তিদের নিয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক নাগরিক কমিটি গঠন, অপরাধী চক্রকে গ্রেফতার, দনিয়া ও রায়েরবাগ-মোহাম্মদপুর এলাকার যানজট সমস্যা সমাধান, সন্ধ্যার পর মহল্লার ভেতরে ট্রাক প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, অন্ধকার জায়গায় পুলিশি টহল জোরদার করা, আবাসিক হোটেলগুলোতে অনৈতিক ব্যবসা বন্ধ করা, শব্দদূষণ রোধ, এবং স্থানীয় চালকদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
সভায় স্বাগত বক্তব্যে ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. মফিজুল ইসলাম একটি সুন্দর সমাজ গড়ার লক্ষ্যে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও পুলিশিং কার্যক্রমে সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।


0 Comments