Advertisement

সেলিম উদ্দিন বলেছেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হবে জামায়াতের।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

 বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, "আগামীর বাংলাদেশ হবে জামায়াতের।"

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর একটি মিলনায়তনে রূপনগর থানা জামায়াত আয়োজিত সহযোগী সদস্য সম্মেলন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সেলিম উদ্দিন বলেন, "রাজনীতির দীর্ঘ পথচলা ও উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে যে, জামায়াতে ইসলামী জনগণের দল, গণমানুষের দল এবং মানুষের প্রাণপ্রিয় কাফেলা। তাই আগামীর বাংলাদেশ হবে জামায়াতের বাংলাদেশ।"

তিনি আরও বলেন, "আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি যে, জ্ঞাতসারে কোনো মানুষের ক্ষতি করিনি এবং করবো না। গত ৫৩ বছরের ইতিহাসে দেখা যায়, জামায়াতের কেউ চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, চুরি, ডাকাতি, মদ, জুয়া, পাশবিকতা, মানবতাবিরোধী অপরাধসহ কোনো ধরনের অপরাধে জড়িত ছিলেন না বা নেই। কিন্তু স্বৈরাচারী সরকার আমাদের বিশেষভাবে টার্গেট করে জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে। অন্যায় আক্রমণের শিকার করেছি।"

তিনি অভিযোগ করেন, "আওয়ামী লীগের অপশাসনে আমাদের শীর্ষ নেতাদের অন্যায়ভাবে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ও দলীয় সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়ে আমাদের রাজপথে দাঁড়ানো পর্যন্ত কঠিন করে তোলা হয়েছে। এমনকি ঈদ ও জুমার নামাজ পড়া কিংবা রোজা রাখার সুযোগও বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। তারা ভেবেছিল, চিরস্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকবে। কিন্তু ছাত্র-জনতার বিপ্লব তাদেরকে লজ্জাজনকভাবে বিদায় নিতে বাধ্য করেছে।"

তিনি বলেন, "তারা আল্লাহর নূর নিভিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছিল, কিন্তু আল্লাহ তাদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়েছেন। এতে প্রমাণিত হয়েছে যে, জামায়াতে ইসলামী একটি ন্যায়নিষ্ঠ, আদর্শবাদী এবং মানবতার বন্ধু রাজনৈতিক দল। আমরা সব সময় ঘুষ, দুর্নীতি, চুরি, ডাকাতি, সুদের কারবার এবং অপশাসন ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আপোষহীন অবস্থানে রয়েছি।

আমরা মানবরচিত মতবাদের বিপরীতে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে দেশে ইসলামী কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছি। এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র কিংবা শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সকলের অধিকার নিশ্চিত হবে। মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না এবং প্রত্যেক নাগরিক সমানভাবে আইনের আশ্রয় ও অধিকার ভোগ করবেন।"

তিনি সকলকে সেই কাঙ্ক্ষিত বিপ্লব ও সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আব্দুর রহমান মূসা বলেন, "ফ্যাসিবাদী সরকার আমাদের বিনাদোষে গায়েবি মামলায় জড়িয়ে জেলে পাঠিয়েছিল। তারা আমাদের বাসা থেকে বস্তাভর্তি বই নিয়ে এসে মিথ্যা বিস্ফোরক মামলায় আসামি বানিয়েছে। বাকশালীরা আমাদের শীর্ষ নেতাদের বিচারের নামে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি; বরং ১ আগস্ট আমাদের সংগঠনকে নিষিদ্ধ করেছিল। কিন্তু জনতার প্রবল রোষের মুখে তাদের নির্মমভাবে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হতে হয়েছে।"

ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, "জুলুমবাজ সরকার আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে বাধা দিয়েছে। এমনকি নামাজ, রোজা এবং ইবাদত-বন্দেগীতেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। ঘরোয়া কর্মসূচিগুলোকে উগ্রবাদী তৎপরতা আখ্যা দিয়ে আমাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালানো হয়েছে। তবে তাদের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি; শেষ পর্যন্ত ছাত্র-জনতার বিজয় হয়েছে।"

থানা আমির আবু হানিফের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা এবং সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য নাসির উদ্দীন ও প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম, পল্লবী উত্তর থানা আমির মাওলানা সাইফুল কাদের এবং পল্লবী দক্ষিণ থানা আমির অধ্যাপক আশরাফুল আলম প্রমুখ।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Post a Comment

0 Comments