টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে রাতের অন্ধকারে জুবায়েরপন্থীদের ওপর হামলা ও ট্রিপল মার্ডারের অন্যতম আসামী মাওলানা সা’দ কান্ধলভী অনুসারীদের পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন বাংলাদেশ মুখপাত্র মুফতি মোয়াজ বিন নূর। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে তাকে ৭ দিনের রিমান্ডের জন্য আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, রোববার এ রিমান্ড আবেদনের শুনানি হবে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার রাতে ভারতের নিজামুদ্দিনের সা’দ অনুসারীদের বিরুদ্ধে জুবায়েরপন্থী এস এম আলম হোসেন টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, যেখানে সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলামকে ১ নম্বর আসামী করা হয়েছে। মামলায় ওয়াসিফুল ইসলামের ছেলে মুফতি ওসামা ইসলাম আনু এবং মেয়েজামাতা আওয়ামী লীগ নেতা ড. কাজী এরতেজা হাসানকেও আসামী করা হয়েছে। মোট ২৯ জন চিহ্নিত আসামীসহ অজ্ঞাত কয়েকশ’ সা’দ কান্ধলভী অনুসারীকে আসামী করা হয়েছে, এবং গ্রেফতার মুফতি মোয়াজ বিন নূর ওই মামলার ৫ নম্বর আসামী।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইস্কান্দার হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, মোয়াজ বিন নূর (৪০) উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের মরহুম নূর মোহাম্মদের ছেলে। মামলার পরপরই রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, আসামিরা মাওলানা সা’দ কান্ধলভীর অনুসারী এবং তারা বিশ্ব ইজতেমায় বাধা দেয়ার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে উসকানিমূলক প্রচারণা চালাচ্ছিলেন।
মামলার ২ নম্বর আসামী আব্দুল্লাহ মনসুর ফেসবুক লাইভে ঘোষণা দেন যে, যদি তাদের টঙ্গী ময়দানে জোড় করতে দেওয়া না হয়, তবে তারা সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করবে। হামলার ঘটনায় কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার আমিনুল ইসলাম বাচ্চু (৬৫), ফরিদপুরের বেলাল হোসেন (৬০) এবং বগুড়ার তাজুল ইসলাম নিহত হয়েছেন।
মামলার প্রধান আসামী সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনামের ভগ্নিপতি। তার পরিবার থেকে অন্য নেতারাও সক্রিয় রয়েছেন। তাবলীগ জামাতের বিভক্তির বিষয়টি এবং ওয়াসিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগসমূহও উল্লেখযোগ্য।



0 Comments