Advertisement

বাংলাদেশে আবারও রোহিঙ্গা ঢলের শঙ্কা কতটা?

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢলের নতুন শঙ্কা

সীমান্তে ‘দুর্নীতির কারণে‘ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের কথা স্বীকার করলেও বাংলাদেশ নতুন করে ‘রোহিঙ্গা ঢলের‘ আশঙ্কা নাকচ করেছে।

এদিকে, বিবিসি বার্মিজ বিভাগের খবরে জানানো হয়েছে যে, রাখাইনের পার্শ্ববর্তী চিন রাজ্যের কানপেটলেট শহরের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে রাজ্য প্রশাসনের মিলিটারি কাউন্সিল। আজ রোববার দুপুরে তাদের সৈন্যদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। গত ২২ ডিসেম্বর, মিয়ানমারের চিন রাজ্যের এই গোষ্ঠী কানপেলেট শহর দখলের ঘোষণা দিয়ে লড়াই শুরু করে।

অন্যদিকে, গত শুক্রবার রাখাইনে বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন পশ্চিমাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ডের পতনের পর সেখানকার আন শহরের পুরো নিয়ন্ত্রণ এখন বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে বলে দাবি করা হয়েছে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও সীমান্তবর্তী দেশগুলোর করণীয় বিষয়ে এক জরুরি অনানুষ্ঠানিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে থাইল্যান্ডে। এই বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী, ভারত, চীন, লাওস ও কম্বোডিয়ার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

মিয়ানমারে ২০২১ সালে বেসামরিক সরকার উৎখাত করে সামরিক শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে ব্যাপক প্রতিবাদ বিক্ষোভ সশস্ত্র বিদ্রোহে রূপ নেয়। জান্তা-বিরোধী থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের একটি অংশ হচ্ছে আরাকান আর্মি, যা ২০২৩ সালের অক্টোবরে রাখাইনে ব্যাপক হামলা শুরু করে এবং একের পর এক জয় লাভ করে।

এই সংঘাতের কারণে গত কয়েক মাসে অন্তত ৮০ হাজার রোহিঙ্গা বিভিন্ন পথে বাংলাদেশে এসেছে বলে সম্প্রতি কায়রো সফরে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জানান।

তবে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের বিষয়ে বিভিন্ন মহল থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলেছেন যে, তিনি সামনে আরো রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আশঙ্কা করছেন।

তবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশে আরেকটি ঢল আসবে বলে তিনি মনে করেন না। তিনি জানান, সীমান্ত দুর্নীতির কারণে বিভিন্ন পথে রোহিঙ্গারা ঢুকছে, তবে তিনি নতুন ঢলের সম্ভাবনা নাকচ করেন।

মিয়ানমার পরিস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, “মিয়ানমার সরকারকে সীমান্ত ও রাখাইন সমস্যা নিয়ে করণীয় নির্ধারণের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তাদের দেখতে হবে কীভাবে তারা এই সমস্যা সমাধান করবে।”

মেজর এমদাদুল ইসলাম জানান, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আসার সংখ্যা নির্ভর করবে জান্তা বাহিনীর আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে পদক্ষেপের ওপর।

“আরেকটি ঢল নামার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে এটি নির্ভর করছে জান্তার সিদ্ধান্তের ওপর,” বলেন তিনি।

সূত্র: বিবিসি

 

Post a Comment

0 Comments