বাংলাদেশ যদি আদালতের মাধ্যমে আদানি গ্রুপের সাথে বিদ্যুৎ চুক্তি বাতিল না করতে পারে, তবে বিদ্যুতের দাম কমানোর জন্য দরকষাকষিতে যেতে চায় দেশটি। এ বিষয়ে সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, যদি চুক্তিতে কোনো অসঙ্গতি পাওয়া যায়, তবে তা নিয়ে পুনরায় আলোচনা করা হবে। তবে শুধুমাত্র দুর্নীতি বা ঘুষের মতো অনিয়ম প্রমাণিত হলে চুক্তি বাতিলের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
এছাড়া, তিনি আরো জানান, এই বিষয়টি আদালতের নির্দেশে চলমান তদন্তের ফলের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রোববার (১ ডিসেম্বর) ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফাওজুল কবির বলেন, "যদি আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি বাতিল না হয়, তাহলে বাংলাদেশের উদ্দেশ্য বিদ্যুতের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর জন্য দরকষাকষি করা।"
তিনি আরো জানান, আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ভারত সরকারের কাছ থেকে কিছু করছাড় পেলেও, বাংলাদেশ তার থেকে কোনো সুবিধা পাচ্ছে না। এই বিষয়টি ইতোমধ্যে আদানিকে জানানো হয়েছে এবং এটি চুক্তি পুনর্বিবেচনার একটি কারণ হতে পারে।
ফাওজুল কবির আরো বলেন, "আমাদের দেশের বিদ্যুৎ চুক্তির ওপর মার্কিন আদালতে আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের কোনো প্রভাব পড়বে না।"
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) তথ্যমতে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ছিল ১৪.০২ টাকা, যা ভারতের অন্যান্য বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের তুলনায় অনেক বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দাম কমে ১২ টাকায় নেমে এলেও, তা এখনও ভারতের অন্যান্য উৎপাদনকারীদের তুলনায় যথাক্রমে ২৭ শতাংশ এবং ৬৩ শতাংশ বেশি।
ফাওজুল কবির জানান, বাংলাদেশের বিদ্যুতের খুচরা দাম ৮.৯৫ টাকা। এর ফলে সরকারের জন্য বছরে প্রায় ৩২০ বিলিয়ন টাকা ভর্তুকি হিসেবে ব্যয় হচ্ছে।
তিনি বলেন, "আমরা চাই, শুধু আদানির বিদ্যুৎ নয়, দেশের বিদ্যুতের দাম যেন সামগ্রিকভাবে গড় খুচরা মূল্যের নিচে নেমে আসে।"
এছাড়া, তিনি জানান যে, বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি চলমান থাকবে, তবে বিল পরিশোধে বিলম্বের কারণে সম্প্রতি আদানি গ্রুপ বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেক করে দিয়েছে। তবে তিনি বলেন, "বাংলাদেশের নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে এবং আমাদের ব্ল্যাকমেইল করতে কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীকে সুযোগ দেওয়া হবে না।"
২০১৭ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আদানি গ্রুপের সাথে একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি হয়, যেখানে ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত বিদ্যুৎ কিনবে বাংলাদেশ। এই চুক্তিতে অনেক অসমতা রয়েছে, যার ফলে ২৫ বছরে প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হবে বাংলাদেশকে।
সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হওয়ার পরদিন, সোমবার, আদানি গ্রুপ এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চুক্তি পুনর্বিবেচনার কোনো ইঙ্গিত তারা এখনও পায়নি।
আদানি গ্রুপের এক মুখপাত্র বলেন, "বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রেখেছি, যদিও আমাদের বকেয়া রয়েছে। আমরা বিপিডিবি এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি, এবং তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছে যে আমাদের বকেয়া শিগগিরই পরিশোধ করা হবে।"



0 Comments