অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বেগম রোকেয়ার সাহস ও কল্পনাশক্তি তাকে মুগ্ধ করেছে, যা আজও তাকে অবাক করে। তিনি বলেন, ‘‘বেগম রোকেয়া যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে বেড়ে উঠেছিলেন, তা আজকের তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। তাঁর লেখাপড়ার সুযোগ কীভাবে হয়েছিল এবং তিনি কতটা কষ্টে তা অর্জন করেছেন, তাও আমাদের জানা। এসব কিছু মিলিয়ে তিনি একজন প্রতিবাদী তরুণী, প্রতিবাদী বালিকা, প্রতিবাদী মহিলা হয়ে উঠেছেন।’’
সোমবার (৯ ডিসেম্বর) বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ১৪৪তম জন্ম ও ৯২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. ইউনূস বলেন, ‘‘বেগম রোকেয়ার কল্পনাশক্তি আমাকে চমকে দিয়েছে। এই কল্পনাশক্তি আমাদের সবার মধ্যে আছে, কিন্তু আমরা বেগম রোকেয়ার মতো তা ব্যবহার করতে পারি না। কল্পনাতে কোনো বাধা নেই। কেউ বলতে পারবে না, ‘এখানে সরকার বাধা দিয়েছে’ বা ‘পরিবার বাধা দিয়েছে’। কল্পনা মানুষের সব শক্তির ঊর্ধ্বে, এতে কোনো খরচ নেই, কোনো আয়োজনের প্রয়োজন নেই—এটা শুধু মনকে মুক্তভাবে কাজ করতে দেয়ার ব্যাপার।’’ তিনি আরো বলেন, ‘‘বেগম রোকেয়া এভাবেই তাঁর কল্পনাশক্তির মাধ্যমে সুলতানার স্বপ্নে এমন দৃষ্টিভঙ্গি ফুটিয়ে তুলেছিলেন।’’
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘‘আমরা ছোটবেলায় অষ্টম শ্রেণিতে বেগম রোকেয়ার সম্পর্কে কিছু পড়েছিলাম, কিন্তু তখন তেমন গুরুত্ব বুঝিনি। তবে যতই বড় হয়েছি, এই নাম বারবার ফিরে এসেছে, এবং তার কর্মকাণ্ড ও চিন্তাভাবনা আমাকে মুগ্ধ করেছে। যারা পাঠ্যবই প্রণয়ন করেছিলেন, তাদের আমি ধন্যবাদ জানাই, কারণ তারা বেগম রোকেয়ার চিন্তা-ধারণা বইয়ে রেখেছিলেন।’’
তিনি পাঠ্যবই প্রণয়নকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘‘আজ যারা পাঠ্যবই লিখছেন, তাদের আমি আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে ছোটবেলার বইয়ে এমন চিন্তার বীজ দেয়া হয়, যার মাধ্যমে নতুন চিন্তা ও ভাবনা উঠে আসবে।’’
এই অনুষ্ঠানে সমাজ, নারী শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের জন্য চার বিশিষ্ট নারীকে ‘‘বেগম রোকেয়া পদক-২০২৪’’ প্রদান করা হয়। তারা হলেন:
- শিক্ষাবিদ পারভীন হাসান, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের চেয়ারপারসন এবং সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির ভিসি
- শ্রমিক, নারী অধিকারকর্মী ও আলোকচিত্রী তাসলিমা আখতার
- দাবাড়ু ও দেশের প্রথম নারী আন্তর্জাতিক দাবা মাস্টার রাণী হামিদ
- নারী অধিকার সংগঠন নারীপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা শিরিন পারভীন হক



0 Comments