বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানিয়েছেন, আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে জনগণের জন্য একটি জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করবে।
মঙ্গলবার বিকেলে কুমিল্লার ফান টাউন পার্ক মিলনায়তনে রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা এবং জনসম্পৃক্ত বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে এই কথা বলেন।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, “আমাদের লক্ষ্য, দেশের মানুষের জন্য একটি জবাবদিহিমূলক সরকার গঠন করা, যেখানে সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। এর মাধ্যমে আমরা দেশের সকল সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম হবো।” তিনি বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা প্রস্তাব শুধুমাত্র দলের কর্মীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, বরং তা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। “যদি কারো আপত্তি বা প্রস্তাবনা থাকে, তবে তা সংস্কার বা সংযোজন করা হবে,” যোগ করেন তিনি।
তারেক রহমান আরো বলেন, “যখন আমরা ২৭ দফা দিয়ে স্বৈরাচারের বিদায়ের দাবি জানিয়েছিলাম, তখন অনেকেই বিশ্বাস করতে চাইতো না। কিন্তু আজ, আমরা ৩১ দফা প্রস্তাব দিয়েছি, যার মধ্যে গণতান্ত্রিক দলগুলোর মতামতও যুক্ত করা হয়েছে।”
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “খেয়াল রাখতে হবে, কোনোভাবেই জনগণের আস্থা নষ্ট করা যাবে না। স্বৈরাচারী সরকার দেশকে ধ্বংস করেছে, এখনো সময় আছে। আসুন, আমরা দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করি। জনগণ এখন বিএনপির দিকে তাকিয়ে আছে।”
দেশের জন্য জিয়া পরিবারের অবদান তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন, আমার মা বেগম খালেদা জিয়া দেশের মানুষের পক্ষে থাকার কারণে নির্যাতিত হয়েছেন, এবং আমার ভাই আরাফাত রহমান ষড়যন্ত্রকারীদের হাতে শহীদ হয়েছেন।”
তারেক রহমান বলেন, “গত ১৫ বছরে স্বৈরাচারী সরকার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে দেশকে দুর্বল করে দিয়েছে। এই দুর্নীতি থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে শিক্ষার মূল ভিত্তি থেকে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “দেশে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে দক্ষ করতে হবে, খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে হবে এবং প্রাইমারি থেকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত দক্ষ নাগরিক তৈরি করতে হবে, যাতে তারা দেশের ভিতরে এবং বাইরে সাফল্য অর্জন করতে পারে।”
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিভিন্ন নেতাকর্মীরা তারেক রহমানের কাছে প্রশ্ন করেন, এবং তিনি সেগুলোর উত্তর দেন। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “দেশের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে এবং যানজটের সমস্যা সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।”
এছাড়া, তিনি জানান, “জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের শহীদদের নামে বিভিন্ন স্থাপনার নামকরণ করা হবে।”
প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, “সংস্কারের কথা বলে নির্বাচন পেছানো যাবে না। যদি নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, বিএনপি ক্ষমতায় আসবে।”
কর্মশালায় বিএনপির বিভিন্ন জেলার শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভার শেষে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। নেতাকর্মীরা অঙ্গীকার করেন, ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর কোনো ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িত হবেন না।



0 Comments