বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, "ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফসল অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব হল খুনি হাসিনাকে ধরে এনে আদালতে হাজির করা।"
তিনি আরও বলেন, "আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর প্রথমে পিলখানা বিদ্রোহের নামে দেশপ্রেমিক সেনা সদস্যদের হত্যা করেছে। এরপর ভারতের পরামর্শে ইসলামকে নির্মূল করতে জামায়াতে ইসলামীকে নিঃশেষ করার কাজ শুরু করে শেখ হাসিনা। জামায়াতের নেতাদের বিরুদ্ধে জেল, নির্যাতন, হামলা, মামলা, খুন, গুম ও বিচারিক হত্যার ব্যবস্থা করা হয়। জামায়াত নেতাদের হত্যার জন্য যে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল, আজ সেই ট্রাইব্যুনালেই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।"
শুক্রবার বিকেলে লালবাগ হাজী আব্দুল আলীম ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের লালবাগ থানা কর্মী ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, "ওই নির্বাচনের আগে ভারতের সমর্থন নিয়ে সেনা প্রধান মঈন উ আহমেদ ও ফখরুদ্দীন এক সমঝোতায় পৌঁছান। এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় এবং তারা নিরাপদে বিদেশে চলে যেতে সহায়তা পান। বিনিময়ে আওয়ামী লীগ ভারতীয় স্বার্থকে নিরাপত্তা দিতে থাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে ভারত ক্ষমতায় রাখতে পারেনি, এবং ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।"
তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, "আপনারা ক্ষমতায় আসেননি, আপনাদেরকে এনে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে। ছাত্র-জনতা আপনাদের রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার করার দায়িত্ব দিয়েছে। সেই দায়িত্ব কীভাবে পালন করবেন, কতদিন সময় নিবেন, এবং কী কী সংস্কার করবেন—এটি জাতির সামনে স্পষ্ট করা জরুরি।"
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শূরা সদস্য ও লালবাগ থানা আমির ড. মুহাম্মদ শামীমুল বারী, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মো: নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, ড. আব্দুল মান্নান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী হাফেজ এনায়েক উল্লাহ প্রমুখ।
মো: নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, "আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত করেছে। গত ১৫ বছর মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা ছিল না। জামায়াতে ইসলামী’র ৫ শতাধিক নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে এবং লাখ লাখ নেতাকর্মীকে জুলুম-নির্যাতনের শিকার করা হয়েছে।"
মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, "ভারত আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নষ্ট করার চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। জনগণের আন্দোলনের ফসল হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকার দেশের স্বার্থে কাজ করবে, জামায়াতে ইসলামী তা সমর্থন করবে।"
ড. আব্দুল মান্নান বলেন, "আওয়ামী লীগ অতিরিক্ত মদ্যপান করে আবোল-তাবোল বলছে, ঠিক যেমনটি শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে একবার দলের নেতাকর্মীদের ধোঁকা দিয়েছিল, এখন আবার মোদি তাকে প্রধানমন্ত্রী করে দেশে পাঠাবে বলে তাদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।"
প্রেস বিজ্ঞপ্তি



0 Comments